চৈত্রের দাবদাহে হাঁসফাঁস অবস্থা যশোরের মানুষ ও প্রাণিকুলে। তিনদিন ধরে এই জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে। শনিবার (২৯ মার্চ) বিকালে যশোরে ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণাধীন আবহাওয়া অফিস। শুক্রবারও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল যশোরে। এর আগে বৃহস্পতিবারও (২৭ মার্চ) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল এই জেলাতেই।
গত তিনদিন ধরে তাপদাহে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে দিনের বেলা ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মানুষের গরমে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। তবে দাবদাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন রিকশাচালকেরা। গরমে বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ হয় না তাদের। জীবিকার তাগিদে এই তীব্র গরমের মধ্যেও কষ্ট করতে হচ্ছে। আবার গরমের কারণে কমেছে তাদের আয়ও।
এছাড়া তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা প্রাণিকুলের। এ আবহাওয়া কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বইতে থাকায় জনজীবনে অস্বস্তি নেমে এসেছে। তীব্র গরম অনুভূত হওয়ায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। বিশেষ প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ ছাতা মাথায় অথবা রিকশায় চলাচল করলেও সে সংখ্যা খুবই কম।
অপরদিকে বিগত বছরগুলোতে ঈদ সামনে রেখে শহরে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি এবং বিপণি বিতানগুলোতে জমজমাট বেচাকেনা চললেও এ বছর গরমের কারণে শহরে দিনের বেলা মানুষের উপস্থিতি কম।
সাধারণত মধ্য এপ্রিলে তীব্র তাপদাহ বয়ে যায় যশোরে। তবে এবার মার্চেই যশোরে তাপদাহ শুরু হওয়ায় জনমনে অস্বস্তি ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এবার আগেভাগে তাপদাহ শুরু হওয়ায় প্রাণিকুলকে আরও ভোগান্তি পোহাতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত বছরের ৩০ জুন যশোরে ব্যারোমিটারের পারদ চড়েছিল ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৭২ সালে ১৮ মে। সেদিন রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।










