হাইটেক পার্কের সাফল্য পরিমাপে সফল কোম্পানি তৈরি ও তাদের বিকাশকে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। আজ শনিবার পিপিআরসি আয়োজিত হাইটেক পার্কস: মিশন কি? বাস্তবতা কি? শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সিরিজে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফারহানা এ রহমান, নর্থ সাইথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসিই বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. রুকনুজ্জামান, ডিএনএস সফটওয়্যার লিমিটেডের এমডি রাফেল কবির, অংশ-এর এমডি মোহাম্মদ মহিদুল এবং হাইটেক পার্ক রাজশাহীর নেট্রো সিস্টেমস লিমিটেড ও টেলজেনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আশাফুদ্দোজা শিশির।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, হাইটেক পার্কের সাফল্যের সূচক কী হবে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। সফল কোম্পানি তৈরিকে এর একটি বড় সূচক হিসেবে দেখতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাইটেক খাতের বিকাশ সফল কোম্পানি তৈরির মাধ্যমে হয়েছে। একটি কোম্পানি শুরু করার পর অন্যরা সেখানে এসেছে এবং পরবর্তী সময়ে অনুসরণ করেছে।
তিনি বলেন, যারা মাঠপর্যায়ে কঠোর পরিশ্রম করছে, তাদের কোম্পানিগুলোকে স্টার্টআপ পর্যায় থেকে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। স্টার্টআপ গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলেও এটিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গিয়ে বিদ্যমান কোম্পানির প্রবৃদ্ধি ও বিকাশকে পাশে সরিয়ে রাখা হচ্ছে কিনা, সেটিও দেখতে হবে।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নেই, এমন জায়গায় হাইটেক পার্ক করা হয়েছে মন্তব্য করেছেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
তিনি বলেন, যেখানে বড় ও টেকসই অর্থনীতি নেই, সেখানে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করে অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যায় না। অনেক হাইটেক পার্ক এখন সরকারের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্কার ও নীতির দিক থেকেও হাইটেক পার্ক খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
তিনি আরো বলেন আইন, দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং কর ও প্রণোদনা নীতিতে সমন্বয়। বর্তমান আইনে এআই, ডাটা সায়েন্সসহ নতুন প্রযুক্তি যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত নেই। ফলে প্রযুক্তি খাতের পরিবর্তনের সঙ্গে নীতিও এগিয়ে নিতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, হাইটেক পার্কের মূল লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের টেকসই ইকোসিস্টেম তৈরি করা। এজন্য অবকাঠামোর পাশাপাশি নীতিগত সহায়তা, ইউটিলিটি সেবা, বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ ও উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিতের পরামর্শ তাদের।
তারা বলেন, বর্তমানে অনেক হাইটেক পার্ক তৈরি হলেও সেগুলোর কার্যক্রম ও ব্যবহার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছেনি। ফলে পার্কের সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে বিদ্যমান পার্কগুলোকে কার্যকর ও দৃশ্যমান করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়া দরকার। পাশাপাশি কোম্পানির প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, গবেষণা ও রফতানি সক্ষমতার ভিত্তিতে হাইটেক পার্কের সাফল্য মূল্যায়ন করা উচিত।










