নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ইটিপি ব্যবহার না করে কারখানা পরিচালনা এবং শীতলক্ষ্যা নদী দখল ও দূষণের অভিযোগে সাতটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ৬ কোটি ২৭ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গতকাল পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালক রুবিনা ফেরদৌসীর নেতৃত্বে উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের হাটাব, মিঠাব, মটেরঘাট ও মঙ্গলখালী এলাকায় পরিচালিত অভিযানে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ সময় তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।
রুবিনা ফেরদৌসী জানান, রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতীরবর্তী এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ আদলতের আদেশ উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে ইটিপি ছাড়াই তাদের কারখানা পরিচালনা করে আসছিল, যার কারণে নদীদূষণের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো নদীর বেশ কয়েক একর জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখায় নদীর গতিপথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তাই নদী দখল ও দূষণের অভিযোগে এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউনুস পেপার মিলকে ৩ কোটি ১৬ লাখ ৫১ হাজার ২০০ টাকা, অনন্ত পেপার মিলকে ৪৫ লাখ ২১ হাজার ৬০০, পূর্বাচল পেপার মিলকে ৪৬ লাখ ৮৭ হাজার ২০০, হাশেম পেপার মিলকে ৩ লাখ, এসিআই সল্ট ইন্ডাস্ট্রিকে ১ কোটি, সুপার ক্রিস্টাল সল্ট ইন্ডাস্ট্রিকে ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ও আফজাল ফুড প্রডাক্টসকে ২১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, জরিমানার পরিমাণ বেশি হওয়ায় কারখানার মালিকদের অনুরোধে তাত্ক্ষণিক আদায় না করে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে উৎপাদনসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে আরো কঠোর শাস্তি দেয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক মো. সাঈদ আনোয়ার জানান, এ অভিযানের ফলে অন্যান্য শিল্প মালিকরা তাদের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে নীতিমালা মেনে চলার ব্যাপারে আরো সতর্ক হবেন। এ অভিযান সবার জন্য সতর্কবাতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণবিরোধী এ অভিযান চলমান থাকবে এবং দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। দূষণকারীরা যত প্রভাবশালী হোক না কেন, কাউকে আমরা ছাড় দেব না।










