বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবেলা করে দেশের আবাসন খাত সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান।

রিহ্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনটির সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূইয়া, সহসভাপতি-১ লায়ন এম এ আউয়াল, পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম এবং মিরাজ মুক্তাদির গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা আবাসন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত ও আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।

রিহ্যাব নেতারা বলেন, আবাসন খাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৫০টিরও বেশি শিল্পখাত যুক্ত রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে অর্থায়নে সংকট ও বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে আবাসন খাতে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে চলমান প্রকল্পগুলো চালু রাখা এবং খাতটিকে টিকিয়ে রাখতে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়। পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জন্য স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঋণ সুবিধা চালু ও ব্যাংকগুলোতে আবাসন ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানানো হয়।

রিহ্যাব নেতারা বলেন, এ তহবিল গঠন করা হলে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে তৈরি অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলা করে আবাসন খাতের নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।

তারা আরো জানান, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জন্য স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঋণ চালুর জন্য ৩০ বছর মেয়াদি এক অঙ্কের সুদে ঋণ দেওয়ার বিশেষ তহবিল বা পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশের মতো শক্তিশালী আবাসন অর্থায়ন ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এ ছাড়া আবাসন খাতকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকায় আবাসন বা নির্মাণ খাতকে অনুৎপাদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রিহ্যাবের দাবি, প্রস্তাবিত তহবিল গঠন এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হলে আবাসন খাত আবারও গতিশীল হবে। এতে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জন্য বাসস্থান কেনাও সহজ হবে। একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।