বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে চালের দাম অনেকটাই স্থিতিশীল থাকে, এমনটাই মনে করছে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ইফপ্রি)। তবে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে ধান সংগ্রহের সময় ও স্থান পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে গতকাল বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) চার দিনব্যাপী বার্ষিক উন্নয়ন সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে এমন পরামর্শ দেয়া হয় ইফপ্রির পক্ষ থেকে।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে চারদিনের এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরবেন। এবারের আয়োজনের মূল বিষয় ‘আন্তঃসংযোগ: সমতা, সুযোগ, স্বাধীনতা এবং মর্যাদা’। সম্মেলনে কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে ইফপ্রির সেশনে চালের দাম নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন হয়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশের সরকার বছরে প্রায় ১৮ লাখ টন ধান সংগ্রহ করে থাকে, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ। তবে ধান সংগ্রহ অভিযানে প্রায় ২৫ শতাংশ ধান সংগ্রহ করা হয় ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসে, যখন দেশে ধানের দাম থাকে সর্বোচ্চ।
কিন্তু মে মাসে ধানের দাম থাকে সর্বনিম্ন, আর এ সময় মাত্র ৯ শতাংশ ধান সংগ্রহ করা হয়। তাই দাম কম থাকার সময় বেশি ধান সংগ্রহের পরামর্শ দেয়া হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে। তাছাড়া মোট ধানের প্রায় ১৭ শতাংশই সংগ্রহ করা হয় ঢাকা বিভাগ থেকে, যেখানে অন্যান্য বিভাগের চেয়ে দাম থাকে সর্বোচ্চ। তাই ধান সংগ্রহের জিওলোকেশন পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দেয় ইফপ্রি।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে নিক মিনোট উপস্থাপনাটি তুলে ধরেন। এ সময় বেসরকারিভাবে কৃষক এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে ধানের সংগ্রহ বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি। নিক মিনোট বলেন, বাংলাদেশে চালের দামে গড়ে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত পরিবর্তন হয়ে থাকে। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশে এটা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত উঠে যায়। সে হিসেবে বাংলাদেশে চালের দামে তুলনামূলক অস্থিরতা কম।
ইফপ্রির জ্যৈষ্ঠ ফেলো পাউল দরস বলেন, ১৯৯০ এর দশক থেকেই দেশে বেসরকারি চাল আমদানির কারণে দামের বড় উত্থান দেখা যায়নি। তাই বেসরকারি আমদানির ক্ষেত্রে যে কোনো প্রতিবন্ধকতা তুলে দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সেশনের উপস্থাপনায় ছিলেন সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক শাহিদুর রশিদ।
ড. বিনায়ক সেন বলেন, চাল-মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির কথা শোনা যায়, কিন্তু ভোগ প্রবণতা নিয়ে তেমন আলাপ হয় না। মানুষের মাছ, সবজি ভোগের প্রবণতাও কমেছে। মূল্যস্ফীতিও বাড়ছে। তাই ভোগের বিষয়টি দেখা দরকার, যাতে সরকার আমদানি এবং মজুদের বিষয়ে নীতি গ্রহণ করতে পারে।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষিবিদ সাত্তার মণ্ডল বলেন, ধানের উৎপাদনের তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা দেখা যায়। উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াকরণের সময়ের ক্ষেত্রেও এমন হয়। তাই সঠিকভাবে দাম নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। পাউল এ বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেন, দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান বা তথ্য বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।










