১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তত্কালীন সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সম্পাদিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ে হানাহানি বাড়ছে, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন জনসংহতি সমিতির নেতারা। অন্যদিকে সরকারি দলের নেতারা বলছেন, চুক্তির অধিকাংশ ধারা সরকার বাস্তবায়ন করেছে; বাকি ধারাগুলো বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক। গতকাল পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেছেন জনসংহতি সমিতি ও সরকারি দলের নেতারা।

এদিন সকাল ১০টায় রাঙ্গামাটি শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি আয়োজিত অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিবিরোধী ও জুম্ম স্বার্থবিরোধী সকল কার্যক্রম প্রতিরোধ; জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জুম্ম ছাত্র-যুবদের শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জনসংহতি সমিতি রাঙ্গামাটি জেলা কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় ডা. গঙ্গা মানিক চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য মেঞচিং মারমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি ভবতোষ দেওয়ান, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুশল চৌধুরী, জেলা সিপিবি সদস্য সৈকত রঞ্জন চৌধুরী, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুমন মারমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ম্রানু মারমা প্রমুখ।

এদিকে জেলা শহরের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক মিলনায়তনে চুক্তির ২৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। আলোচনা সভায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অং সুই প্রু চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালকুদার এমপি। উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইফতেকুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাছেছর হোসেন প্রমুখ।