মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে আহতদের অঙ্গহানির জন্য তাদের যারা তিরস্কার বা কটু কথা দ্বারা মানসিক আঘাত দেয় তারা মানুষের মধ্যে পড়ে না। আমরা দেখেছি আন্দোলনের পর থেকে অনেক মা বাবারাও ট্রমাটাইজড। অনেক পরিবারের মেয়েরা আন্দোলনে ট্রমাটাইজড হয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হচ্ছেন না এই ভয়ে যে, যদি মানুষ জেনে যায় তাহলে তাদের বিয়ে দিতে সমস্যা হতে পারে।

উপদেষ্টা বলেন, আজ সকালে কেবিনেট মিটিংয়ে আহত ও শহীদ পরিবারকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) ‘মেন্টাল হেলথ ক্রাইসিস: ডিলিং উইথ পোস্ট জুলাই রেভুলিউশনারি অ্যাসপেক্টস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। তিনি সেমিনার আয়োজনের প্রেক্ষাপট, মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন রিসোর্স, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে আহতরা যে পক্ষের হোক তারা চিকিৎসা পাবেন। তবে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে আহতদের অর্ধেককে এখনো সহায়তার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে সব গুছিয়ে নিতে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক ও পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম মুজাহেরুল হক বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতরা ছাড়াও আহত এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তারা নানারকম হতাশায় ভুগছেন। তারা একটি সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। তাদের আবারো সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরিয়ে আনতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চরকির সিইও রেদওয়ান রনি জানান আন্দোলনের তথ্যচিত্র নির্মাণ করতে গিয়েও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন আন্দোলনের ভয়াবহতায়। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় আন্দোলনকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব নিয়ে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্যের সুস্থতায় পরিকল্পনা থাকা উচিত।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চাইল্ড হেল্পলাইনের পরিচালক মো. মোহাইমিন চৌধুরী বলেন, ‘আন্দোলনকালীন সময় থেকে চাইল্ড হেল্পলাইনে কলের সংখ্যা বেড়ে যায়। যারা সরাসরি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে এবং এ সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে তাদের অনেকেই এখন খাওয়া দাওয়া করতে পারছে না, ঘুমোতে পারছে না। কারণ তারা মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত। তাই মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে এবং এ হতাশা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট হেল্পলাইন সহযোগিতা করবে।’

স্বাগত বক্তব্য দেন আঁচল ফাউন্ডেশনের সভাপতি তানসেন রোজ। তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণ অভ্যুত্থানে আহত শতকরা পঁচাত্তর ভাগ মানসিক বিষণ্ণতায় ভুগছেন। অনেকে শারীরিকভাবে আহত হননি কিন্তু মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর একিউট স্ট্রেস ডিজঅর্ডার এবং পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার হওয়ার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি আমরা। তাই আজকের সেমিনারের মূল দুটি লক্ষ্য হলো- জুলাই বিপ্লবের পরে যে মানসিক স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং হবে সেটি মোকাবেলা করা, আঠারো কোটি মানুষের জন্য সার্বিক মানসিক স্বাস্থ্যের কর্ম কৌশল নির্ধারণে কাজ শুরু করা। সর্বোপরি, বাংলাদেশ ২.০ এর জন্য নতুন মেন্টাল হেলথ ইকোসিস্টেম তৈরি করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নওশাদ জমির। এছাড়াও প্যানেলিস্ট হিসেবে সেমিনারে আলোচনা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. নাহিদ মাহজাবিন মোরশেদ ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. কামরুল হাসান। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সাকিব প্রত্যয়, সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল গণমুক্তি মঞ্চ। —বিজ্ঞপ্তি