রাজধানীর পল্টনে গত শনিবার বিএনপির সমাবেশে সরকারকে নিয়ে প্রবীণ রাজনীতিক ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যকে আপত্তিকর ও রাস্তার ভাষা বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ ও পুরনো তিনটি সেতুর পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর মেঘনাঘাট এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এমন মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ড. কামাল হোসেন বিএনপির সমাবেশে সরকারকে লাথি মেরে উচ্ছেদ করবে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা গণতান্ত্রিক ভাষা হতে পারে না, এটা রাস্তার ভাষা। তার মতো ব্যক্তি কী করে এমন রাস্তার ভাষায় কথা বলেন? ড. কামাল সীমা ছাড়িয়ে গেছেন বলেও জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে বিএনপি আন্দোলনের নামে আবারো দেশে জ্বালাও-পোড়াও করে সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপযুক্ত জবাব দেবে।

খালেদা জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার মামলা কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়। তার এ মামলা সরকার করেনি। তার মামলা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের মামলা। তাকে রাজনৈতিকভাবে মুক্ত করার সুযোগ নেই। তাকে কারামুক্ত করা আদালতের ব্যাপার। আর এ মামলা বিলম্বের জন্য বিএনপি নিজেরাই দায়ী। তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) সময়মতো আদালতে হাজিরা দিলে এ মামলা অনেক আগেই নিষ্পত্তি হয়ে যেত।

আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী দ্বিতীয় তিনটি সেতু জাপানের সহায়তায় আধুনিক ও যুগোপযোগী করে চার লেনে নির্মাণ করা হয়েছে। জাপানি কোম্পানি জাইকা আজ এ সেতু তিনটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করল। সেতু তিনটির কাজ নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগে সম্পন্ন করায় ১ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা ব্যয় কম হওয়ায় জাপান সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি।

এ তিনটি সেতু দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে দেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সব প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের জন্য শিক্ষণীয় ও অনুকরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, চার লেনবিশিষ্ট এ সেতু তিনটি নির্মাণ হওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যোগাযোগ ৪-৫ ঘণ্টার মধ্যে সম্ভব। এছাড়া সব ধরনের পণ্য পরিবহন সহজ হবে।