চীনের অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাবকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত কাঠামো তৈরি হয়নি। পরবর্তী পর্যায়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সম্ভাব্যতা (ফিজিবিলিটি) সমীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

আজ শুক্রবার রাতে মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন মাহদী আমিন।

মাহদী আমিন বলেন, আজই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক হয়েছে। সেখানে দুই দেশেরই উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ছিল। পরবর্তীতে শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্তে বৈঠক হয়েছে। তাদের মাঝে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অনেকগুলো বিষয় উঠে এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই জিনপিং বেশি প্রশংসা করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার।

চীন বর্তমানে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য অদম্য ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বেইজিং জানিয়েছে সামনের দিনগুলোতে চীন অবশ্যই বাংলাদেশের পাশে থাকবে, বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য ইতোমধ্যে দুই দেশ ঐকমত্য পোষণ করেছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ নীতিমালা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ভবিষ্যতে কোনো দেশের জন্য শ্রমবাজার খুললে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

চীনের করিডোরের প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই বাণিজ্যের প্রসার হোক, তাহলে বাংলাদেশে ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন হবে। নতুন ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হবে, ট্রেড ভলিউম বাড়বে। সুতরাং আমরা ইকোনমিক করিডোরকে ইতিবাচকভাবে দেখছি। তবে এখনো একটা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়নি। পরবর্তীতে প্ল্যানিং স্টেজে যাবে এবং ফিজিবিলিটি এনালাইসিস করা হবে। স্বাভাবিকভাবে আমরা চাই, শুধু নির্দিষ্ট কোনো দেশ না, করিডোরের মাধ্যমে সাউথ ইস্টের অন্যান্য দেশ, এশিয়ান অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। সুতরাং অবশ্যই করিডোর প্রস্তাবনাকে আমরা ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি। সামনের দিনগুলোতে এ বিশাল মহাপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা হবে, আলোচনা করা হবে।