কুমিল্লায় বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে এ অনুদান পৌঁছে দেয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ১৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনে আরো সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

গতকাল রাত ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইন পার হওয়ার সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। দ্রুতগতির ট্রেনটি বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে সেটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে আটকে যায় এবং প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত ছেঁচড়ে নিয়ে যায়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক, হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাস থেকে যাত্রীদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ভয়াবহ এ সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই অন্তত ১২ জন যাত্রী নিহত হন এবং আরো অনেক যাত্রী গুরুতর আহত হন।