ফকির লালন শাহ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বের সেতু হিসেবে কাজ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, লালন শাহ মানবতার আলোকবর্তিকা। তার মানবতাবাদী দর্শন সর্বজনীন মানবতা ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা দেয়, যা সমাজ ও ধর্মের বিভাজন অতিক্রম করে মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করে।
গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘লালন সন্ধ্যা ২০২৬’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। ভারতের হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কিংবদন্তি বাউল সাধক, দার্শনিক ও গীতিকার ফকির লালন শাহের জীবন ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে লালন শাহের দর্শনের সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা এবং বাংলার সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে তার অবদানের কথা তুলে ধরেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘লালনের গানে প্রতিফলিত মানবতা ও সামাজিক-ধর্মীয় বিভাজন অতিক্রমের মূল্যবোধ সর্বজনীন তাৎপর্য বহন করে।’ বাংলার অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাউলধারার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রখ্যাত বাউল ও লোকসংগীতশিল্পী শফি মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি দল ঐতিহ্যবাহী বাউলসংগীত পরিবেশন করে। পরে প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের স্বামী বাঁশিশিল্পী গাজী আবদুল হাকিমের বাঁশিবাদনের সঙ্গে সংগীত পরিবেশন করেন নাসরিন আখতার বিউটি। অচিন পাখি সাংস্কৃতিক একাডেমির শিক্ষার্থীরা সমবেত কণ্ঠে লালনগীতি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নিগার সুলতানা সুমির নেতৃত্বাধীন ব্যান্ড লালন ঐতিহ্যবাহী লালনগীতির সঙ্গে আধুনিক সংগীতের সমন্বয়ে পরিবেশনা উপস্থাপন করে।










