সংসদ সচিবালয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সেই সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আজ শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ৫টা ১ মিনিটে আমার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগপত্রটি আমি গ্রহণ করেছি। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র পড়ে শোনানোর পর তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে এ পদত্যাগপত্র আমি গ্রহণ করেছি। যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে আমি শপথ নিয়েছিলাম, সেদিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও আমি শপথ নিয়েছি, যদি প্রয়োজন হয়। একইভাবে আমাদের ডেপুটি স্পিকার যখন শপথ নেন, শপথের অংশে বর্ণিত থাকে কোনো কারণে যখন স্পিকারের চেয়ার শূন্য থাকবে, তখন ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি একজন মানুষ, তিনি অসুস্থ হতেই পারেন। তিনি রোগেরও নাম প্রকাশ করেছেন। লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তিনি কী কী রোগে ভুগছেন এবং মাঝে মাঝে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। যেখানে তিনি নিজেই এটি দাবি করেছেন। এজন্য ডাক্তারের সার্টিফিকেটের কোনো প্রয়োজন নেই। সুতরাং, আমরা আশা করি, এ পদত্যাগের ফলে সকল ধোঁয়াশা পরিষ্কার হলো। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা কোনো ধরনের বিরূপ মনোভাব কিংবা কনফিউশন যাতে এইসব ব্যাপারে না ঘটে।
স্পিকার আরো জানান, এর আগেও বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রপতিরা পদত্যাগ করেছেন এবং রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর এই চেয়ার তো কখনোই শূন্য থাকে না। সুতরাং, স্পিকার হিসেবে আমি এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি, এটিই হলো বাস্তবতা।
তিনি আরো বলেন, আমার মনে হয়, তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সব সময়। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।
পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগগুলোর প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। কিন্তু সে মেয়াদ শেষের আগেই পদত্যাগ করলেন তিনি।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠিয়ে পদত্যাগ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি। ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আর সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।










