বিদায়ী ঈদুল ফিতরের আগে-পরের ১৭ দিনে (৪-২০ এপ্রিল) দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার।

দেশের সড়ক পরিবহন খাতের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর হিসাব বলছে, ঈদের আগে-পরে ১৭ দিনে দেশে সব মিলিয়ে ২৮৬টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় ৩২০ জন নিহত ও ৪৬২ জন আহত হয়েছে। এ সময়ে গড়ে প্রতিদিন ১৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিন গড়ে ১৯ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিআরটিএর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে এবার একটি যানজটমুক্ত ঈদযাত্রা উপহার দেয়া সম্ভব হয়েছে। তবে এ সফলতাকে ম্লান করে দিয়েছে দুটি বড় দুর্ঘটনা। গত বছরের (২০২৩) তুলনায় এবারো ঈদুল ফিতরে গড় দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়েনি। তবে গড় নিহতের সংখ্যা প্রায় তিনজন বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার নিহত বেড়েছে গড়ে ১৮ দশমিক ১৫ শতাংশ।’ তিনি বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ও জনস্বাস্থ্য সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু পরিবারকে আর্থিক ও মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেয়। একজন কর্মক্ষম ও কর্মজীবী মানুষের মৃত্যু মানে একটি পরিবারের নিঃস্ব হয়ে যাওয়া। আইন প্রতিপালনেও সবাইকে আন্তরিকভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। নিজে আইন মানতে হবে এবং অন্যকেও আইন প্রতিপালনের বিষয়ে উৎসাহ দিতে হবে।’

ঈদে ঢাকা বিভাগে ৫৮ দুর্ঘটনায় ৭৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৭ দুর্ঘটনায় ৪৭, রাজশাহী বিভাগে ৩৮ দুর্ঘটনায় ৪৩, খুলনায় ২৯ দুর্ঘটনায় ৩১, বরিশালে ২৫ দুর্ঘটনায় ৩৪, সিলেটে ১৪ দুর্ঘটনায় ১৭, রংপুরে ১৯ দুর্ঘটনায় ২০ ও ময়মনসিংহে ২৪ দুর্ঘটনায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ।

দুর্ঘটনার প্রধান কারণ: মোটরযান চালকের অসাবধানতায় যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা, অতিরিক্ত ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, চালকের অসতর্কতা/ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং, পথচারীর অসাবধানতা ও যত্রতত্র রাস্তা পারাপার, মহাসড়কে থ্রি হুইলার ও ইজিবাইক, নসিমন, করিমনসহ অবৈধ বাহন চলাচল, মোটরসাইকেল চালকের অসচেতনতাসহ ট্রাফিক আইন যথাযথ অনুসরণ না করা, ট্রাফিক সাইন, রোড মার্কিং ইত্যাদি মেনে না চলা, অবৈধ পার্কিং করা, পার্শ্ব সড়ক থেকে মূল সড়কে ওঠার সময় চালকের অসাবধানতা ও উভয়মুখী সড়কে ডিভাইডার না থাকা।