যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের (ইউএসসিআইআরএফ) প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি নিয়ে যে তথ্য দেয়া হয়েছে, তা সত্য নয় বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) প্রেস উইং থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের সঙ্গে সহিংসতার কোনো সম্পর্ক নেই। সরকারের ওপর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের যে দায় চাপানো হয়েছে, এর পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই।

প্রেস উইং বলেছে, প্রতিবেদনে গত বছর গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ধর্মীয় সহিংসতায় শত শত হিন্দুর মৃত্যুর যে দাবি করা হয়েছে, তা একেবারেই মিথ্যা। ওই সময় প্রায় কেউই এ ধরনের সহিংসতার শিকার হননি। এমনকি এর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণও নেই। তবে তদন্তের এ সব তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করেনি ইউএসসিআইআরএফ, যা এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে ধর্মীয় সংগঠন যেমন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের করা অভিযোগগুলো তদন্ত করেছে পুলিশ। এতে দেখা গেছে, অধিকাংশ মৃত্যুই ধর্মীয় সহিংসতা বা ঘৃণার কারণে হয়নি, বরং এগুলো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, দুর্ঘটনা, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং আত্মহত্যার ঘটনা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে এটি লক্ষণীয় যে, গুজব ছড়ানো এসব মিডিয়ার অনেকগুলোই রাজনৈতিক এজেন্ডা দ্বারা প্রভাবিত। তারাই অন্তর্বর্তী সরকারকে বিপদে ফেলতে এ ধরনের মিথ্যাচার ছড়িয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অশান্তি, যেমন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাগুলোকে কখনো কখনো ধর্মীয় সহিংসতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এদেশের ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কিছু টানাপোড়েন থাকতে পারে। তবে এ ঘটনাগুলো মূলত রাজনৈতিক, ধর্মীয় নিপীড়ন নয়। এ পার্থক্য সঠিকভাবে বোঝা জরুরি, যাতে জটিল রাজনৈতিক ঘটনার সহজীকরণ করে ধর্মীয় সংঘাত হিসেবে উপস্থাপন করা না হয়।