নারায়ণগঞ্জের মসজিদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির ফতুল্লা অঞ্চলের ব্যবস্থাপকসহ আট কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী মো. আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ওই মসজিদটি ফতুল্লা আঞ্চলিক অফিসের অধীনে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান রাব্বী, সহকারী প্রকৌশলী এসএম হাসান শাহরিয়ার, সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া, সিনিয়র সুপারভাইজার মো. মনিবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র উন্নয়নকারী মো. আইউব আলী, সাহায্যকারী মো. হানিফ মিয়া ও কর্মচারী মো. ইসমাইল প্রধান।
সাময়িক বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার তল্লা এলাকার বায়তুল সালাত জামে মসজিদে ৪ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় ২৭ জন মুসল্লি মারা গেছেন। আরো ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া মসজিদের সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যে কারণে তিতাস গ্যাসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। দুর্ঘটনাটি তিতাস গ্যাসের ফতুল্লা জোনের আওতাধীন এলাকায় হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় জোনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের অবহেলার কারণে হওয়ায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান ও চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
এদিকে গতকাল সকাল ৯টা থেকে পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিতাস গ্যাসের পাইপলাইনে লিকেজ আছে কিনা তা দেখার জন্য মসজিদের সামনে,
দক্ষিণ পাশে ও উত্তর পাশে পাঁচটি গর্ত করে তিতাস গ্যাসের সংযোগ লাইন খুঁজে বের করা হয়। এ সময় দুপুরের দিকে প্রায় আট থেকে নয় ফুট মাটি খুঁড়ে মসজিদের উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি লাইনে দুটি ফুটো পাওয়া গেছে। যে ফুটো দিয়ে গ্যাস নির্গত হয়ে থাকতে পারে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মফিজুল ইসলাম। গ্যাস লাইনে দুটি ফুটো পাওয়ার ঘটনার মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে গতকাল বিকালে তিতাস গ্যাস নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা অঞ্চলের আট কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করাসহ কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিস্ফোরণের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের উদ্ধার, হাসপাতালে নিয়ে আসা রোগীদের গণশুনানির মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ করে। তদন্ত কমিটির প্রধান নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববির কার্যালয়ে সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মোট ১৮ জন সাক্ষী গণশুনানিকে অংশ নিয়ে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্ত কমিটির প্রধান খাদিজা তাহেরা ববি বলেন, জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অধিকতর তদন্তের অংশ হিসেবেই গণশুনানির মাধ্যমে প্রত্যক্ষদর্শীদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, মসজিদ নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে তদন্তকাজ এগিয়ে চলছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করা হবে। অন্যদিকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা বিস্ফোরণের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছেন।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির তদন্ত কমিটির প্রধান ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মফিজুল ইসলাম জানান, তদন্ত কমিটির তদন্তের অংশ হিসেবে মাটি খুঁড়ে তিতাস গ্যাসের পাইপলাইনে লিকেজ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্যই মসজিদের তিন পাশের মোট পাঁচটি জায়গায় মাটি খুঁড়ে গত করে লিকেজ আছে কিনা দেখেছেন। একই সঙ্গে গ্যাসের মূল পাইপলাইনেরও সন্ধান করা হয়। পশ্চিম তল্লা এলাকায় নব্বইয়ের দশকে গ্যাস লাইনের সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। সে সময় রাস্তার ওপর দিয়ে গ্যাস লাইন সরবরাহ করা হয়েছে। ওই সময় এ জায়গাটি অনেক নিচু ছিল। পরবর্তী সময়ে মাটি ফেলে উঁচু করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজের সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মসজিদের ভেতরে প্রায় ৪০ জন মুসল্লি দগ্ধ হন। দগ্ধদের মধ্যে ২৭ জন মারা গেছেন। বাকিদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।










