শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সোমবার সারাদেশে উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। এবারো দেশের অন্যতম বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে দিনাজপুরের গোর এ শহীদ বড় ময়দানে। এটিকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ঈদগাহ হিসেবে দাবি করা হয়। এবার এখানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়।

গোর এ শহীদ ঈদগাহে ২০১৭ সালে ঈদের নামাজে ছয় লক্ষাধিক মুসল্লি অংশ নেন বলে জানান আয়োজকরা। এবারও লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম হবে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসক জানান, ২২ একর জায়গা নিয়ে তৈরি ঈদগাহ মাঠে জামাতের জন্য দুইশো লাইন থাকবে। প্রতি লাইনে ৮২৫জন করে ১ লাখ ৬৫ হাজার মুসল্লির দাঁড়ানোর জায়গা রয়েছে। তবে বিগত সময়ে ঈদগাহ মাঠ পূর্ণ হওয়ায় মাঠের বাইরেও নামাজ পড়তে দেখা গেছে মুসল্লিদের।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হোসেন বলেন, ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই।

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে এবারের ঈদের জামাতে লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম ঘটবে। প্রায় দুইশো (১৯৮ বছর) বছরের প্রাচীন এই ঈদগাহে আজ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায়। ১৫ বছর পর আবারো শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। রাজনৈতিক কারণে শেখ হাসিনা সরকারের সময় মাওলানা ছাইফুল্লাহকে এখানে ঈদের জামাত পড়ানো থেকে বিরত রাখা হয়।

মুসল্লিদের কাছে মাওলানা ছাইফুল্লাহর ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকায় স্থানীয় মুসল্লিদের ধারণা, গত কয়েক বছরের চেয়ে এবার লোক সমাগম বাড়বে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান বলেন, ঈদ জামাতের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। মুসল্লিরা উৎসবমূখর পরিবেশ এসে নামাজ পড়বেন এবং নিজ গন্তব্যে ফিরে যাবেন।

এবারো সিলেটে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে। জামাতে ইমামতি করবেন বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা কামাল উদ্দিন আহমদ। নামাজের আগে বয়ান পেশ করবেন বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোশতাক আহমদ খান।

হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত। এতে ইমামতি করবেন দরগাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা আসজাদ আহমদ। এছাড়া, সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন অধ্যক্ষ মাওলানা লুৎফুর রহমান হুমায়দী।

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ঈদের প্রথম ও প্রধান জামাত জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে সকাল আটটায়। সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ঈদুল-উল-ফিতরের দ্বিতীয় জামাত একই মসজিদে হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। ঈদের প্রধান জামাতে নগরবাসীকে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ্ জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী।

রাজশাহী নগরীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় হযরত শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে হযরত শাহ মখদুম (রহ.) দরগা মসজিদে হবে ঈদের জামাত। এতে ইমামতি করবেন মাওলানা মো. কাওসার হোসাইন। রাজশাহীতে ঈদের দ্বিতীয় প্রধান জামাত টিকাপাড়া ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং সকাল সাড়ে ৮টায়।

দক্ষিণের জেলা খুলনায় ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় সার্কিট হাউজ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে প্রধান জামাত খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা জেলা মডেল মসজিদ ও কালেক্টরেট জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় হবে ঈদের জামাত। টাউন জামে মসজিদে সকাল ৯টা এবং ১০টায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

বরিশালে প্রধান জামাত নগরীর হেমায়েতউদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। জেলায় সবচেয়ে বড় জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় চরমোনাই মাদ্রাসা ময়দানে। জামাতে ইমামতি করবেন চরমোনাই পীরের ভাই মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম। চরমোনাইয়ের ঈদ জামাতে কয়েক হাজার মুসল্লি অংশ নেবেন।

বিভাগীয় নগরী রংপুরে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। নামাজ পড়াবেন রংপুর কেরামতিয়া মসজিদের খতিব মাওলানা বায়েজিদ হোসেন। আবহাওয়া খারাপ প্রতিকূল থাকলে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জেলা মডেল মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়। এই জামাতে ৫০ হাজার মুসল্লির সমাগম ঘটবে বলে আশা ঈদগাহ কর্তৃপক্ষের।

ময়মনসিংহ নগরীতে প্রধান ঈদ জামাত কাঁচিঝুলি আঞ্জুমান ঈদগা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টায় প্রথম জামাতের পর একই মাঠে দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৯টায়। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আব্দুল্লাহ আল-মামুন ও দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা আতিকুর রহমান।