দেশের ৫৬ লাখ কিশোরীকে (লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ শতাংশ যাদের বয়স ১০-১৪ বছর) এইচপিভির (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) টিকা প্রদান করা হয়েছে। জরায়ুমুখ ক্যান্সার রোধে এ টিকা দেয়া হয়। ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স গ্যাভি, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক কর্মসূচির অধীনে এ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
জরায়ুমুখ ক্যান্সার হয় একটি সাধারণ ভাইরাস (এইচপিভি) থেকে এবং এটি গোটা বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশেও নারীর মৃত্যুর একটি অন্যতম কারণ। বাংলাদেশে প্রতি বছর জরায়ুমুখ ক্যান্সারে পাঁচ হাজারের বেশি নারী প্রাণ হারান। বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, সিলেট ও রংপুর বিভাগে এইচপিভি টিকা প্রদান কার্যক্রমের চূড়ান্ত পর্যায় শেষ হয়েছে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস বলেন, ‘৯৩ শতাংশ মেয়েকে এইচপিভি টিকা দেয়ার এই মাইলফলক অর্জিত হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের ইপিআই প্রোগ্রামের নেতৃত্বে, এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।’
তিনি বলেন, ‘এই কার্যক্রমে সাফল্যের বিষয়টি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার শক্তির কথা বলে, ডাক্তারদের প্রত্যয় ও প্রচেষ্টার কথা বলে- বিশেষ করে যারা এ টিকা প্রদান কর্মসুচিকে সমর্থন করে আসছেন। পাশাপাশি এটি তাদের কথা বলে- যারা এ প্রজন্মের অল্পবয়সী মেয়েদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার থেকে সবচেয়ে ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন কমিউনিটি, ধর্মীয় নেতা ও বাবা-মায়েদের সঙ্গে কাজ করছেন, এই কার্যক্রমকে গতিশীল করেছেন। যেহেতু এই টিকা আগামী বছর থেকে রুটিন টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, তাই প্রতিরোধযোগ্য এই জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলের লক্ষ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।’
বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি (এ.আই) ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ বলেন, ‘এইচপিভি টিকাদান কার্যক্রমের এ সাফল্য জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে কর্মরত মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন কমিনিটির নেতা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের একত্রিত হয়ে কাজ করার শক্তি প্রমাণ করে। গুজব ও টিকা গ্রহণে দ্বিধার মতো প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বিশ্বাস পুনর্গঠনে সময়োপযোগী পদক্ষেপ, ৯৩ শতাংশ কভারেজের সাফল্য অর্জনে আমাদের সক্ষম করেছে। ডব্লিউএইচও আইভিডি নেটওয়ার্কসহ আমাদের উন্নয়ন সহযোগীরা প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহায়তা প্রদান, কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে সহয়তা করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ মাইলফলক কেবল একটি ইপিআই বা টিকাদান কর্মসূচি নয়, এটি জরায়ুমুখ ক্যান্সারের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিশ্রুতি।’
গ্যাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের ইউরো এশিয়া-প্যাসিফিকের প্রধান স্যাম মুলার বলেন, ‘প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত কমিউনিটির ৫৬ লাখ কিশোরীকে এইচপিভি টিকা প্রদানের মাধ্যমে আমরা শুধু তাদের জীবন রক্ষা করছি না, বরং একটি পুরো প্রজন্মের বিকাশের জন্য তাদের ক্ষমতায়নের দ্বার উন্মুক্ত করেছি। আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন নিবেদিতপ্রাণ সকল স্বাস্থ্যকর্মী এবং এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত সকল কমিউনিটির প্রতি যারা এটিকে সফল করেছেন।’
এই টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয় তার মধ্যে ছিল মিডিয়াকে মোবিলাইজ করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারাভিযান চালানো, কার্যক্রমের ব্যাপ্তি বাড়াতে সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তনে নিবিড়ভাবে কাজ করা, টিকা গ্রহণে সব ধরনের দ্বিধা মোকাবেলা করা এবং কোনো মেয়ে যাতে পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতন বৃদ্ধি করা। আনুষ্ঠানিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততাও এ অভিযানের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে টিকাদান কার্যক্রমে কওমি মাদ্রাসা, সরকারি স্কুল ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলসহ আনুষ্ঠানিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য জোরালো প্রচেষ্টা চালানো হবে।










