সোলার হোম সিস্টেম কর্মসূচির মাধ্যমে ২৩ মিলিয়ন বা ২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি কার্বন রাজস্ব দেশে এনেছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)। ২০০২ সালে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় অফ-গ্রিড এলাকার ৪৩ লাখ বাড়ি ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে সংস্থাটি। সম্প্রতি এ কর্মসূচির আওতায় ১৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার কার্বন রাজস্ব এসেছে। আগামী দিনগুলোয়ও এ কর্মসূচি থেকে আরো রাজস্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘গ্রিন ডায়ালগ: জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক আয়োজনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
ডায়ালগের প্যানেল আলোচক ইডকলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মনিরুল ইসলাম বলেন, সোলার হোম সিস্টেম কর্মসূচি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। সৌরবিদ্যুতের আলোয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময় বেড়েছে। সন্ধ্যার পরও দোকান খোলা রাখার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসার কর্মঘণ্টাও বেড়েছে। কর্মসূচিটি বিশ্বে বৃহত্তম অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আবাসিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার (ডিআরএস) নামে নতুন কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা করছে ইডকল। এ কর্মসূচির আওতায় বাড়ির মালিক মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশ, ডিমান্ড অ্যাগ্রিগেটর ২০ শতাংশ এবং ইডকল সহজ শর্তে পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে বাকি ৬০ শতাংশ অর্থ দেবে।
ইডকলের হিসাবে, দেশে ১ কোটি ৬৩ লাখ আধাপাকা ও পাকা বাড়ি রয়েছে। এর অর্ধেক বাড়িতে ৪ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা গেলে প্রায় ৩৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী গ্রীষ্মের আগে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ সংকটে মানুষের ভোগান্তি কমাতে এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
ইডকলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সংস্থাটির সংশ্লিষ্টতা থাকবে।
‘গ্রিন ডায়ালগ: জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ আয়োজনটিতে সঞ্চালনা করছেন বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। অনুষ্ঠানে দেশের জলবায়ু, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, উদ্যোক্তা ও দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।










