রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে একদিনে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৩১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে রোববার (১ আগস্ট) সকাল ৯টার মধ্যে হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে এরা মারা যান।

এদের মধ্যে করোনায় ৬ জন এবং করোনা সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে ৭ জন মারা গেছেন। করোনা নেগেটিভ সত্ত্বেও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় মারা গেছেন আরও ৫ জন।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী  ঢাকা পোস্টকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘন্টায় রাজশাহীর ৬ জন, নাটোরের ৪ জন, নওগাঁর ৩ জন, পাবনার ৩ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন এবং কুষ্টিয়ার একজন করে মারা গেছেন।

এদের মধ্যে নাটোরের ৩ জন, রাজশাহীর দুজন এবং পাবনার একজন করে মোট ৬ জন মারা গেছেন করোনা সংক্রমণে। করোনা সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন রাজশাহীর দুজন, পাবনার দুজন, নওগাঁর দুজন এবং কুষ্টিয়ার একজনসহ মোট ৭ জন। করোনা নেগেটিভ সত্ত্বেও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় রাজশাহীর দুজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন, নাটোরের একজন এবং নওগাঁর একজন করে ৫ জন মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জন পুরুষ এবং ৭ জন নারী প্রাণ হারিয়েছেন করোনা ইউনিটে। যাদের ৫ জনের বয়স ৬১ বছরের উপরে। এছাড়া  ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪ জন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৫ জন মারা গেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মরদেহ দাফনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পরিচালক আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬ জন করে মারা গেছেন হাসপাতালের নিবীড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ)। এ ছাড়া ১, ১৪, ১৬, ১৭ ও  ২৯/৩০ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন করে এবং ৩ এবং ২২ নম্বর ওয়ার্ডে একজন করে মারা গেছেন।

রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫১৩ শয্যার রামেক করোনা আইসোলেশন ইউনিটে রোগী ভর্তি ছিলেন রাজশাহীর ১৮০ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩৯ জন, নাটোরের ৬৮ জন, নওগাঁর ৩২ জন, পাবনার ৮১ জন, কুষ্টিয়ার ১০ জন, চুয়াডাঙ্গার ৩ জন, সিরাজগঞ্জের ৩ জন এবং ময়মনসিংহ জেলার একজনসহ মোট ৪১৮ জন। ২০ শয্যার আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন ১৯ জন।

এদের মধ্যে করোনা নিয়ে এ পর্যন্ত ভর্তি রয়েছেন ১৯৫ জন। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ১৬০ জন। করোনা ধরা পড়েনি হাসপাতালে ভর্তি ৬৩ জনের নমুনায়। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৫৩ জন। এই একদিনে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪৬ জন।