রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে মৃত্যু কমেছে। একই সঙ্গে কমছে রোগী সংখ্যাও। রামেক’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও জানান, গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নয় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনায় ৫ জন, করোনা উপসর্গে ৩ জন এবং করোনা নেগেটিভ হয়েও একজন মারা যান।
গতকাল বুধবার হাসপাতালে (২৪ ঘণ্টায়) করোনায় ৩ জন, করোনা সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে ৪ জন এবং করোনা নেগেটিভ হয়েও ৩ জনের মৃত্যু হয়। আগের দিন মঙ্গলবার ৫ জন করোনায়, উপসর্গ নিয়ে ১৪ এবং ২ জন নেগেটিভ হয়ে মারা যান।
হাসপাতাল পরিচালক শামীম ইয়াজদানী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে পাবনার ২ জন এবং রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোরের একজন করে ৫ জন করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও মেহেরপুর জেলার একজন করে মোট ৪ জন। করোনা নেগেটিভ হয়েও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় কুষ্টিয়া জেলার একজন মারা গেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মরদেহ দাফনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইয়াজদানী আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪ জন মারা গেছেন হাসপাতালের নিবীড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ)। এ ছাড়া ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২ জন করে এবং ২৯/৩০ নম্বর ওয়ার্ডে একজন মারা গেছেন। এক দিনে ৪ পুরুষ এবং পাঁচ নারী প্রাণ হারিয়েছেন করোনা ইউনিটে। যাদের তিনজনের বয়স ৬১ বছরের উপরে। এ ছাড়া ৫১ থেকে ষাট বছরের মধ্যে দুজন এবং ৪১ থেকে পঞ্চাশ বছর বয়সী চারজন মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা পর্যন্ত ৫১৩ শয্যার রামেক করোনা আইসোলেশন ইউনিটে রোগী ভর্তি ছিলেন ৩৪২ জন। একদিন আগেও এই সংখ্যা ছিল ৩৬৩। এদের মধ্যে রাজশাহীর ১৬২ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩৩ জন, নাটোরের ৫৪ জন, নওগাঁর ৩১ জন, পাবনার ৪৭ জন, কুষ্টিয়ার ১০ জন, চুয়াডাঙ্গার একজন, সিরাজগঞ্জের একজন, মেহেরপুরের ২ জন এবং বগুড়ার একজন রয়েছেন।
হাসপাতালে করোনা নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ১৮০ জন। একদিন আগেও এই সংখ্যা ছিল ১৯২। আটজন কমে করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি দাঁড়িয়েছে ৯৭ জনে। করোনা ধরা পড়েনি ভর্তি ৬৫ জনের নমুনায়। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৩৭ জন। একদিনে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪৯ জন।










