অবশেষে ৩৪ বছর পর প্রত্যাহার হচ্ছে ট্রেনের ভাড়ার বিদ্যমান
রেয়াতি সুবিধা। আগামী ৪ মে থেকে বাড়তি ভাড়ায় ট্রেন যাত্রা করতে হবে যাত্রীদের। এ জন্য বুধবার (২৪ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া রেলের অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে (১১ দিন পূর্বে) নতুন
এ সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে।
দূরপাল্লার যাত্রীদের রেয়াতি সুবিধা বাতিলের কারণে ১০০
কিলোমিটারের বেশি ভ্রমণ করা যাত্রীদের ভ্রমণ ভাড়া বাড়বে বলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিবহন
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
সর্বশেষ ১৯ মার্চ
রেলভবনের মার্কেটিং শাখার উপ-পরিচালক (মার্কেটিং) মো. মহববতজান চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিতে
গত ১ এপ্রিল থেকে রেয়াত রহিত/প্রত্যাহার পূর্বক নতুন ভাড়া কার্যকর করতে বাণিজ্যিক বিভাগকে
নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। ঈদের আগে ট্রেন ভাড়া বাড়লে যাত্রী অসন্তোষের কথা বিবেচনা করে
সিদ্ধান্তটি স্থগিত করা হয়।
হিসাব অনুযায়ী, ১০১-২৫০ কিলোমিটার ভ্রমণে ২০ শতাংশ, ২৫১-৪০০
কিলোমিটার ভ্রমণে ২৫ শতাংশ এবং ৪০১ কিলোমিটারের বেশি যেকোনো পরিমাণ দূরত্বের জন্য রেয়াতি
সুবিধা ছিল ৩০ শতাংশ। নতুন নিয়মে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর অতিরিক্ত সংযোজিত কোচ ও আবেদনের
প্রেক্ষিতে রিজার্ভ টিকিটে নন-এসিতে স্বাভাবিক ভাড়ার ২০ শতাংশ এবং এসি টিকিটে ৩০ শতাংশ
বাড়তি ভাড়া যুক্ত হচ্ছে।
রেলের অপারেশন বিভাগের তথ্যমতে, রেলওয়ের ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত
হওয়ার পর এরই মধ্যে টিকিট বিক্রি ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান সহজ (জেভি)
সারা দেশে ১ হাজার ৩৪টি স্টেশন-টু-স্টেশন
রেল ভাড়ার রেয়াতি সুবিধা বাদ দিয়ে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে রেলওয়ের বাণিজ্যিক বিভাগের
মাধ্যমে অনুমোদন নিয়েছে। সোমবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশ রেলওয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে
আগামী ৪ এপ্রিল থেকে ১৯৯২ সালে জারি হওয়া রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (ট্রাাফিক
কমার্শিয়াল) নাহিদ হোসেন খান বণিক বার্তাকে বলেন, দীর্ঘদিনে ধরে আরোপিত রেয়াতি সুবিধা
প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে। আগামী ৪ এপ্রিল থেকে নতুন নিয়মে ট্রেনের ভাড়া
দেবে যাত্রীরা। সরাসরি ভাড়া না বাড়ালেও রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহারের কারণে ট্রেন
যাত্রায় আগের চেয়ে কিছুটা বাড়তি খরচ হবে যাত্রীদের। যা রেলের সেবা ও বিদ্যমান গণপরিবহনের
ভাড়ার তুলনায় খুবই নগন্য। আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে নতুন নিয়মে টিকিট কাটবে যাত্রীরা।










