ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের ছোট-বড় শহরগুলো ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত নয় বলে মনে করে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। শুক্রবার মিয়ানমারে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের ঘটনা আবারো এ শহরগুলোর দুর্বল প্রস্তুতির কথা মনে করিয়ে দেয়।
আইপিডি মনে করে, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড ও মহাপরিকল্পনা না মানার কারণেই এই দুর্বলতা। বিগত কয়েক বছরে ছোট ছোট ভূমিকম্প বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিলেও, প্রস্তুতি প্রায় শূন্য। তাই দ্রুত প্রস্তুতি নেয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইপিডি।
আইপিডি জানায়, সরকার সংস্কার কমিশন করলেও পরিকল্পিত নগরায়ন ও ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং আবাসন ব্যবসায়ীদের চাপে ড্যাপ সংশোধনের জন্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে। অথচ দুর্যোগের সময় মানুষের আশ্রয়ের জন্য পার্ক-খেলার মাঠ বাড়ানোর কোনো আলোচনা নেই। পান্থকুঞ্জ পার্ক রক্ষার আন্দোলনও সরকার উপেক্ষা করছে।
রাজউক ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনুমোদনহীন ভবন তৈরির অভিযোগ রয়েছে। ড্যাপ ও ইমারত বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে সরকার ভূমিকম্পের ঝুঁকি আরো বাড়াচ্ছে। সরু রাস্তায় বহুতল ভবন ও ১০ তলা পর্যন্ত ভবনে ছাড় দেয়া বিপজ্জনক। পেশাজীবীদের আপত্তি সত্ত্বেও সরকার ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করছে।
ঢাকার ভূমি ব্যবহারে মাটির গঠন বিবেচনা করা হচ্ছে না। বন্যা প্রবাহ অঞ্চল ও জলাশয় ভরাট করে তৈরি ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। তুরস্কের ভূমিকম্পেও এমন দুর্বলতা দেখা গেছে। ড্যাপে এলাকাভিত্তিক ভবনের আকার নির্দিষ্ট করার প্রস্তাব থাকলেও, সরকার পুরো ঢাকার জন্য একই নিয়ম করতে চায়।
এ আত্মঘাতী প্রবণতা থেকে বের না হলে বড় ক্ষতি হতে পারে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি আরো ভয়াবহ হবে।
ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে আইপিডি ১০টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— নগর পরিকল্পনা কমিশন গঠন, বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন, মাটির গঠন অনুযায়ী পরিকল্পনা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা, এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা, সরু রাস্তায় বহুতল ভবন নির্মাণ বন্ধ করা, পার্ক-খেলার মাঠ তৈরি, মানুষের জীবনকে প্রাধান্য দেয়া, সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বাড়ানো ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা।










