আগামী রোববার তার দেশে ফেরার কথা ছিল। বিএনপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, আজ দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন স্পিকার।

গত ১৯ জুলাই চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৬ জুলাই (রোববার) তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে আজ তিনি দেশে ফিরছেন।

গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকরা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ গুঞ্জনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘যদি রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কারণে হোক বা যেকোনো কারণে পদত্যাগ করতে চান সেই অপশন তো উনার আছে। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। কোনো পদক্ষেপ নেই। আমিও এগুলো (গুঞ্জন) গণমাধ্যমে শুনছি। আর তিনি যদি পদত্যাগ করতে চান, সাংবিধানিকভাবে সেটা স্পিকার বরাবর পদত্যাগপত্র দিতে হয়। এটুকু নিয়ম আছে জানি, এর বাইরে কিছু জানি না।’

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাই তো বললেন এটা একটা গুঞ্জন, শোনা যাচ্ছে—তো গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। আর এটা যদি ঘটনা হয়, সেটা তো আমরাও দেখব।’ পরে এক সাংবাদিক গণমাধ্যমে খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে তার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা রাষ্ট্রপতিকে জিজ্ঞেস করতে পারেন?’ স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চেয়েছেন কিনা প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘সেটা উনাকে জিজ্ঞেস করতে হবে।’ গণমাধ্যমে খবর এসেছে গত মে মাসে লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাপ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এমন প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা আমি জানি না।’

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির স্বেচ্ছায় পদত্যাগের বিষয়টি সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়, ‘স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি স্বীয় (নিজ) পদ ত্যাগ করতে পারবেন।’ আর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা তার অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সেই হিসাবে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সেই হিসাবে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা।