দেশের এভিয়েশন খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরির সক্ষমতা এখনো পর্যাপ্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি থাকলেও দেশের চাহিদা অনুযায়ী পাইলট তৈরির সক্ষমতা সীমিত। একইভাবে মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার সংকটও রয়েছে। এ খাতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও সময়োপযোগী নয়।

আজ শনিবার বিকাল ৫টায় রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেশন সেন্টারের দ্য প্রেস্টিজে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে মূল প্রবন্ধ উপস্থানকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ কনক্লেভের আয়োজন করেছে দৈনিক বণিক বার্তা।

এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন বলেন, বিশ্বের এভিয়েশন খাতে সবচেয়ে বেশি চাহিদা তৈরি হচ্ছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে। তবে এয়ারক্রাফট উৎপাদনের ক্ষেত্রে এখনো পশ্চিমা দেশগুলো এগিয়ে রয়েছে। ফলে বাংলাদেশেরও এভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস খাতের সম্ভাবনার দিকে আরো বেশি নজর দেয়া উচিত।

তিনি বলেন, জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ। বিপুল জনগোষ্ঠীর যাতায়াত ও সেবার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে এভিয়েশন খাতকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে এ খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, চীনের এভিয়েশন খাত ও দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারের দিকে তাকালে এ খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়। এ অবস্থায় বাংলাদেশের স্বার্থে চীনের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা এবং নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।

বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের এভিয়েশন বাজার প্রতিবছর প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বাড়ছে। বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ এ অঞ্চলে বসবাস করে। ফলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে উড়োজাহাজ ভ্রমণের চাহিদা আরো বাড়বে। ২০৪০ সালের মধ্যে এ চাহিদা দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের সংখ্যা ও তাদের বিমান ভ্রমণের প্রবণতা বাড়ায় এ খাতের বাজার আরো সম্প্রসারিত হচ্ছে।

তিনি জানান, ২০৪৫ সালের মধ্যে এভিয়েশন খাতে প্রায় ৭ হাজার পাইলটের প্রয়োজন হতে পারে। একই সময়ে টেকনিশিয়ানের সংখ্যাও প্রায় ২৮ শতাংশ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক কেবিন ক্রুর প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রতি বছর প্রায় ৭০ থেকে ১০০ জন নতুন পাইলটের প্রয়োজন হতে পারে।

দেশের এভিয়েশন খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরির সক্ষমতা এখনো পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি থাকলেও দেশের চাহিদা অনুযায়ী পাইলট তৈরির সক্ষমতা সীমিত। একইভাবে মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার সংকটও রয়েছে। এ খাতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও সময়োপযোগী নয়।

তিনি জানান, দেশে এভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এ খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে কাজ করছে। তবে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের জিডিপিতে এভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস খাতের অবদান এখনো খুবই কম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোও এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের স্থানীয় এয়ারলাইনগুলো বর্তমানে দেশের এভিয়েশন বাজারের আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করছে। বাকি বড় অংশের বাজার বিদেশী এয়ারলাইন ও সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে রেখেছে।

ভবিষ্যতে বিমান ভ্রমণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামীতে ১২ দশমিক ১ থেকে ১৩ মিলিয়ন মানুষ বিমান ভ্রমণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই এখন থেকেই এ খাতে দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে দেশের এভিয়েশন খাতসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, উদ্যোক্তা ও দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।