রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক দলের গোলাগুলিতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের ‘দুই কিলো’ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক) বাঘাইছড়ি উপজেলা সংগঠক জানং চাকমা ও টুজিম চাকমা। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বাঘাইছড়ি উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের দুই কিলো এলাকায় পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেট্রিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক) ও সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে গোলাগুলি হয়। ঘণ্টাব্যাপী এই গোলাগুলিতে ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) উপজেলা সমন্বয়ক জানং চাকমা ও সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির এক কর্মী নিহত হন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুরে দুই কিলো নামক স্থানে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন।  বাঘাইছড়ি থানার এসআই মো. আসাদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেট্রিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক) কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা ওরফে জালোয়া বলেন, দলের উপজেলা সমন্বয়ক জেনন চাকমা দুই কিলো এলাকার একটি দোকানে বসে ছিল। এ সময় সন্তু লারমার জেএসএসের কিছু সন্ত্রাসী তাকে গুলি করে হত্যা করে। তবে জনসংহতি সমিতির কর্মী কীভাবে মারা গেল এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। অন্যদিকে নিহত ব্যক্তি নিজেদের দলের সদস্য কিনা এ প্রসঙ্গে জানতে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) বিভিন্ন ইউনিটের নেতার মুঠোফোনে চেষ্টা করেও কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতিও দেয়নি দলটি। প্রসঙ্গত রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাহাড়ের বিবদমান চারটি আঞ্চলিক দলের সক্রিয় অবস্থান রয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আধিপত্য বিস্তার, এলাকা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে।