রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে একদিনে প্রাণ গেল আরো ১৪ জন। শনিবার  সকাল ৯টা থেকে রোববার সকাল ৯টার মধ্যে হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে তারা মারা যান।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘন্টায় রাজশাহীর ৮ জন, পাবনার ৩ জন, নাটোরের একজন, নওগাঁর একজন এবং চুয়াডাঙ্গার একজন মারা গেছেন।

এই একদিনে রাজশাহীর ৭ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন, নাটোরের একজন এবং পাবনার একজন করে মোট ১০ জন মারা গেছেন করোনা সংক্রমণে। এ ছাড়া করোনা সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন পাবনার দুজন, রাজশাহীর একজন এবং চুয়াডাঙ্গার একজনসহ মোট ৪ জন। 

গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী প্রাণ হারিয়েছেন করোনা ইউনিটে। যাদের ৮ জনের বয়স ৬১ বছরের উপরে। এছাড়া  ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫ জন এবং ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে একজন মারা গেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মরদেহ দাফনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পরিচালক আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬ জন মারা গেছেন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ)। এ ছাড়া ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন, ১, ১৪, ১৫, ১৬, ২২, এবং ২৯/৩০ নম্বর ওয়ার্ডে একজন মারা গেছেন।

রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫১৩ শয্যার রামেক করোনা আইসোলেশন ইউনিটে রোগী ভর্তি ছিলেন ৪১৬ জন। ২০ শয্যার আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন ২০ জন। করোনা নিয়ে এ পর্যন্ত ভর্তি রয়েছেন ১৭৮ জন। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ১৮৮ জন। করোনা ধরা পড়েনি হাসপাতালে ভর্তি ৫০ জনের নমুনায়। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫০  জন। এই একদিনে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫০ জন।

শনিবার (২৪ জুলাই) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল ল্যাবে ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা ধরা পড়েছে ৮৮ জনের নমুনায়। একই দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে আরও ৪৪৬ জনের। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৩৫ জনের। পরীক্ষার অনুপাতে রাজশাহীর ৪৫ দশমিক ০৭ শতাংশ, নওগাঁর ৪৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ, নাটোরের ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং জয়পুরহাটের ১৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে।