রাঙ্গামাটিতে কলেজছাত্রী পূর্ণিমা চাকমার রহস্যজনক মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও সহপাঠীরা। গতকাল দুপুরে রাঙ্গামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন পূর্ণিমা চাকমার মামাতো ভাই পলাশ চাকমা। তিনি দাবি করেন, ‘আমার বোনের মৃত্যুটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর আমরা ১ নভেম্বর থানায় এজাহার দিলেও পুলিশ সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি। এছাড়া ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সম্পর্কে জানতে সিভিল সার্জন অফিসে গেলে তারা থানায় যেতে বলে, আবার থানা সিভিল সার্জন অফিসে যেতে বলে। তাই আমরা দ্রুত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রদান ও তদন্তপূর্বক মামলা গ্রহণ করে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।’ সংবাদ সম্মেলনে কলেজ শিক্ষার্থী মোহিনী চাকমা, মিথিলা চাকমা, রুবেল চাকমাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

পলাশ চাকমা বলেন, ‘ গত ২৯ অক্টোবর রাঙ্গামাটি শহরের রাজবাড়ী এলাকার একটি বাসায় আমার বোন পূর্ণিমা চাকমার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তারা পূর্ণিমা ‘আত্মহত্যা’ করেছে বলে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। বলা হচ্ছে পূর্ণিমা সিলিং ফ্যানে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন—সে যদি সিলিং ফ্যানের মাধ্যমে আত্মহত্যা করে, তাহলে কীভাবে ওড়না বেঁধে নিল? ওই রুমে তো কোনো চেয়ার-টেবিল ছিল না। আর সিলিং ফ্যানের যে উচ্চতা কোনো কিছুর ব্যবহার ছাড়া ওড়না বাঁধা সম্ভব নয়। আবার এ ঘটনার পর বাড়ির মালিক আমাদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে টাকা দিতে চাইবে কেন? আমরা বোন হত্যার বিচার চাই।’

রাঙ্গামাাটি পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাছছের হোসেন সাংবাদিকদের জানান, পূর্ণিমা চাকমার মৃত্যুর ঘটনায় ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা হয়েছে। তারা বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখছেন। তদন্ত কার্যক্রম চলমান।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ অক্টোবর দুপুরে কলেজছাত্রী পূর্ণিমাকে অচেতন অবস্থায় রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা শুনে উধাও হয়ে যান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া মল্লিকা দেওয়ানসহ অন্যরা।

কলেজছাত্রী পূর্ণিমা চাকমা জেলার জুরাছড়ি উপজেলার দুমদুম্যা ইউনিয়নের বগাখালী এলাকার সাধন চাকমার মেয়ে। সে রাঙ্গামাটি সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। পড়ালেখার সুবাধে জেলা শহরের রাজবাড়ী এলাকার মল্লিকা দেওয়ানের বাসায় থাকত।