ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, এভিয়েশন হাব করতে দেশীয় এয়ারলাইন্সের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না হলে বাংলাদেশে এভিয়েশন দাঁড়াবে না।
আজ শনিবার বিকালে রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেশন সেন্টারের দ্য প্রেস্টিজে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ কনক্লেভের আয়োজন করেছে দৈনিক বণিক বার্তা।
বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে দেশের এভিয়েশন খাতসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, উদ্যোক্তা ও দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রানওইয়েতে অপেক্ষার কারণে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। ট্যাক্সিওয়েতে উড়োজাহাজকে ১০ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি পুড়ছে এবং সময়মতো ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ইউএস বাংলার একটি বোয়িংয়ের ক্ষেত্রে শুধু একটি রানওয়ের জন্য প্রায় ৩০০ কেজি বেশি জ্বালানি পুড়ে। একটি এয়ারবাসের ক্ষেত্রে প্রায় ৯০০ কেজি এবং ছোট একটি এটিআরের ক্ষেত্রে ২৫ মিনিটের ফ্লাইটে প্রায় ৭৫ কেজি জ্বালানি পুড়ে। ইউএস বাংলা প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়ে। আমরা অন-টাইম মেইনটেইন করতে পারি না।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, যাত্রীদের বলা হয় ফ্লাইট ১৫ মিনিট দেরি হচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সের কিছু করার থাকে না। এছাড়া, থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে এয়ার অপারেটরদের মতামত নেওয়া হয়নি। টার্মিনাল নির্মাণের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অপারেটরদের কী প্রয়োজন বা তারা কী করতে চান, তা জানতে চাওয়া হয়নি। অথচ থার্ড টার্মিনাল সবার আগে অপারেটরদের জন্য।
তিনি জানান, ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর গেলে একজন যাত্রীকে ট্যাক্স ও ভ্যাট মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার ৮৯০ টাকা দিতে হয়। কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় আসার সময় নেওয়া হয় মাত্র ২০০ টাকা। সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ থেকে গেলে প্রায় ৯ হাজার ৮৯০ টাকা দিতে হয়।
এ ছাড়া জ্বালানির দাম ও বিভিন্ন চার্জের কারণে এয়ারলাইন্সগুলোর ব্যয় বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর গেলে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বাবদ ৯৭ হাজার টাকা দিতে হয়। বিপরীতে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস ঢাকায় এলে স্থানীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য প্রায় ৩ লাখ টাকা চার্জ করে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সনদ ২০২৩ সালে পেলেও ইউএস বাংলার এখনো লাইসেন্স নেই বলেও জানান তিনি।










