নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বায়তুল সালাহ জামে মসজিদে বিস্ফোরণে ২০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ঘরে ঘরে চলছে শোকের মাতম। বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে পুরো পশ্চিম তল্লা ও আশপাশের এলাকায়। নিহতদের স্বজনের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। এলাকার অনেকেই ধারণ করেছেন কালো ব্যাজ। আবার অনেক বাড়ির গেটে কালো পতাকা সাঁটানো হয়েছে।

ওই এলাকার বাসিন্দা আসিফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় দুঃখ জানানোর ভাষা আমাদের নেই। আমরা হতবাক, গভীর মর্মাহত। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আল্লাহর ঘরে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। কে জানত সেই মসজিদেই এভাবে জীবন দিতে হবে তাদের!

বিস্ফোরণের আগে এশার ফরজ নামাজ আদায় করেই মসজিদ থেকে বের হয়ে এসেছিলেন বজলুল হক। ভাগ্যক্রমে রক্ষা পাওয়া এ মুসল্লি বলেন, আমি দোকান খুলতে তাড়াতাড়ি করে মসজিদ থেকে বের হয়ে এসেছি। কয়েক মিনিট পরই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। এতে আমি রক্ষা পেয়েছি ঠিক, কিন্তু হারিয়েছি নামাজের সাথীদের।

এ দুর্ঘটনায় নিহতদের একজন রিফাত। গতকাল তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ছেলের শোকে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন মা রিনা আক্তার। অনবরত কাঁদছেন বড় দুই বোন ডলি আক্তার ও পলি আক্তার? নামাজ পড়তে গিয়ে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু মানতে পারছেন না কেউই।

ওই মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিল দুই সহোদর সাব্বির ও জুবায়েদ। বিস্ফোরণে দগ্ধ এ দুজনের কেউই বেঁচে নেই। তারা যে বাসায় ভাড়া থাকেন সে বাড়ির মালিক নূরজাহান জানান, সাব্বির নারায়ণগঞ্জ কলেজে বিবিএ ও জুবায়েদ সরকারি তোলারাম কলেজে একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে মা পারুল বেগম সংসার চালাতেন। দুঃখিনী মায়ের দুঃখ

আর ঘুচল না। স্বামীর পর দুই ছেলেও চলে গেল। এখন তাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা নেই কারো।

মসজিদের পেছনে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন ব্যবসায়ী কুদ্দুস ব্যাপারী ? নিয়মিত ওই মসজিদে নামাজ পড়তেন তিনি। শুক্রবার এশার নামাজও সেখানেই পড়ছিলেন। বিস্ফোরণে তার শরীরের অধিকাংশ পুড়ে যায়। রাতেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কুদ্দুস ব্যাপারী।

একই এলাকার হুমায়ুন কবীরও মারা গেছেন ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণে। তিনি কাজ করতেন গ্রামীণ ডায়িং কারখানায়। তিন মেয়ে ও দুই ছেলের জনক হুমায়ুন কবীরের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। তার একার আয় দিয়েই চলত পুরো সংসার। যাদের গাফিলতিতে এ ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিচার দাবি করেছেন নিহত হুমায়ুনের পরিবারের সদস্যরা।

বায়তুল সালাহ জামে মসজিদে ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আল-আমিন বলেন, যদি জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটত, তবে পুরো এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়ত। আবার যদি এশার নামাজের ফরজ আদায়ের সময় বিস্ফোরণ ঘটত, তাহলে এক থেকে দেড়শ লোক হতাহত হতেন। এত মানুষের মৃত্যুতে শোক জানানোর ভাষা আমাদের নেই।