বাংলাদেশের প্রায় ২৬ শতাংশ জনগণ ঘুর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হন। আর ৭০ শতাংশ জনগণ বন্যাপ্রবণ এলাকায় বসবাস করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এর প্রভাব আরো বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে বাংলাদেশের শিশুদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি। সম্প্রতি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে মাতৃগর্ভে বৃষ্টিপাতের বৈচিত্র্যের সংস্পর্শে থাকা শিশুদের শারীরিক গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) রাজধানীতে অবস্থিত পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) সম্মেলন কক্ষে এক গোলটেবিল আলোচনায় এ গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। ‘‌হেলথ ইফেক্টস অব ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড মিটিগেটিং ইফেক্টস অব ক্লাইমেট পলিসি: এভিডেন্স ফ্রম বাংলাদেশ’ শিরোনামে এ গবেষণা পত্র উপস্থাপন করেন এডিবির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. মিনহাজ মাহমুদ। গবেষণা পরিচালনায় তার সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বার্মিংহামের আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শাঈখ ইস্কান্দার।

দেশের গ্রামীণ এলাকার শূন্য থেকে ৬০ মাস বয়সী ৬ হাজার ৮০২ শিশুর ওপর এ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। যাদের মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৫ জন পুরুষ ও ৩ হাজার ৩২৪ জন নারী ছিলেন। বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড হাউজহোল্ড সার্ভে (বিআইএইচএস) থেকে ২০১১-১২, ২০১৫ ও ২০১৮-১৯—এ তিনটি পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাতৃগর্ভে বৃষ্টিপাতের বৈচিত্র্যের কারণে শিশুদের উচ্চতা ও ওজন কমে যায়। প্রতি ইউনিট বৃষ্টিপাতের বৈচিত্র্যের জন্য বয়সের তুলনায় শুন্য দশমিক ০০১৫ ইউনিট উচ্চতা ও শুন্য দশমিক ০০১৪ ইউনিট ওজনে তারতম্য ঘটে। একই কারণে দৈর্ঘ্যের তুলনায় শুন্য দশমিক ০০০৮ ইউনিট ওজন প্রভাবিত হয়।

গবেষণায় বলা হয়, এ ধরনের প্রভাবের ফলে শিশুরা দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টিহীনতা এবং ওজনের ঘাটতিজনিত সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তাদের শিশুদের ওপর এই প্রভাব আরো গুরুতর।

গবেষণাপত্র উপস্থাপনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন পিআরআইয়ের চেয়াম্যান জায়েদি সাত্তার, নির্বাহী পরিচালক খুরশিদ আলম, পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার, মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান প্রমুখ।

আলোচকরা মনে করেন, এ ফলাফলগুলো বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে এই তথ্য নীতিনির্ধারকদের সহায়তা করবে।