আমাদেরও ভুলত্রুটি হয়। আমরা পরিষ্কার বলেছি, অন্যায় আর জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে চলে না। কিন্তু এর দ্বারা এটাও আমরা মিন করছি না যে আমরা কোনো অন্যায় করি না। আমাদের অন্যায়-অপরাধ দেখলে ধরে দিন। আমরা কথা দিচ্ছি, সংশোধন করব। দলের কারো অন্যায় ধরা পড়লে তা সহনীয় মাত্রার হলে সংশোধনের সুযোগ দেয়া হবে, কিন্তু গুরুতর হলে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। গায়ে যদি আপনার সাদা কাপড় থাকে, আপনাকে যত্নশীল হতে হবে। সাদা কাপড়ে দাগ লাগে, কথা ঠিক না। সাদা কাপড়ে কম লাগে, কিন্তু যা লাগে, তা ভাসে। ভেরি কেয়ারফুল।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) মাল্টিপারপাস হলে ঢাকা জেলা জামায়াত আয়োজিত সদস্য (রুকন) সম্মেলনে এ কথা বলেন শফিকুর রহমান।

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেন অন্যদের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা না করে নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজে মনোযোগ দেন। উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সব বিষয়ে এক্সপার্ট, কিন্তু ওনার নিজের মন্ত্রণালয়ের ওপর উনি এক্সপার্ট নন কেন? যার যার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব, তাদের পালন করার সুযোগ দিন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব আপনার পালন করার দরকার নেই। ওনাকে দায়িত্ব পালন করতে দিন। আপনি আপনার মন্ত্রণালয়ে অ্যাটেনশন দিন। জাতিকে শান্তিতে থাকতে দিন।’

দেশে ঘুস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কারণে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘‌আগের দিন এক হুইপকে বলতে দেখেছেন, যেকোনো দেশ থেকেই যে-ই আসুক, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে চাঁদাবাজিকে জাতীয়করণ করা হলো কিনা, তা আল্লাহই জানেন। চাঁদাবাজি তারাই করেন। সদিচ্ছা থাকলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব, কিন্তু সদিচ্ছা না থাকলে তা কোনোভাবেই বন্ধ হবে না।

বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বিশ্বের বহু দেশে ছড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘‌তবে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা হস্তক্ষেপ করতে চান না।’ তার মতে, প্রতিটি দেশের জনগণই তাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। একইভাবে অন্য কোনো দেশও যেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে।

সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের শান্তি বিঘ্নিত হলে আপনারাও শান্তিতে থাকতে পারবেন না।’

সংবিধান নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বেশি সংবিধান কচলাতে যাইয়েন না। সংবিধান কচলালে নিজেদের অস্তিত্ব আর খুঁজে পাবেন না। সংবিধানে অনেক কিছু আছে, এখনো হাত দিতে পারেন নাই। হাত দিতে পারবেন কিনা, তা-ও জানি না।’ বিএনপির নেতাদের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘কেউ যদি সংবিধানে নেই বলে গণভোটকে অবৈধ বলেন, তাহলে একই যুক্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার, গণ-অভ্যুত্থান কিংবা ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনও একই যুক্তিতে অবৈধ হবে।’

ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন)।