টোটাল এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হক বলেছেন, বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিমান ভ্রমণ এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজনীয়তা। দ্রুত, সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের জন্য বিমান যোগাযোগ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
আজ শনিবার রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারের দ্য প্রেস্টিজে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে তিনি এ কথা বলেন। দৈনিক বণিক বার্তা এ কনক্লেভের আয়োজন করেছে।
কে এম মুজিবুল হক বলেন, সড়ক ও রেল যোগাযোগ যেমন পরিবহন ব্যবস্থার অংশ, বিমান চলাচলও তেমনি আকাশপথের পরিবহনব্যবস্থা। তাই সড়ক ও রেল যোগাযোগের মতো বিমান চলাচলকেও সহজলভ্য করতে হবে।
তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল চালু হলে দেশে ১৫ বিলিয়ন ডলারের বিমান চলাচলের বাজার তৈরি করা সম্ভব। এর মাধ্যমে ২০ থেকে ২৪ মিলিয়ন যাত্রী এবং ৫ লাখ টন কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা অর্জন করা যাবে।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে বিমান চলাচল খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ খাতের উন্নয়নে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আগামী ১৫ বছরের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে একটি কৌশলগত কমিটি ও স্টিয়ারিং কমিটি থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কে এম মুজিবুল হক বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বিমান চলাচল বাজারের আকার প্রায় ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার। এ বাজারকে ১৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। কার্গো পরিবহনের সক্ষমতাও ৫ লাখ টনে উন্নীত করতে হবে।
তিনি জানান, বিশ্বের বিমান চলাচল বাজার প্রায় ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের। এর মধ্যে বাংলাদেশের অংশ প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। দেশের বিমান চলাচল বাজারের প্রায় ২২ শতাংশ দেশীয় এবং ৭৭ শতাংশ বিদেশী এয়ারলাইনসের দখলে। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিমান ভ্রমণ বাবদ প্রায় ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে।
বিমান খাতের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সম্পদ থেকে কতটা আয় করা যাচ্ছে, সেটিও ভাবতে হবে। বর্তমানে জিডিপিতে বিমান চলাচল খাতের অবদান প্রায় ৮ শতাংশ বলে আমি মনে করি। অথচ এ খাতের সম্ভাবনাকে আরো বড় পরিসরে কাজে লাগানোই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
তিনি আরো বলেন, আমাদের আশপাশ দিয়ে প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ যাত্রী চলাচল করে। এশিয়ান অঞ্চলের সঙ্গে আমাদের ভৌগোলিক অবস্থানও অত্যন্ত সুবিধাজনক। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলো থেকে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ যাত্রী এশিয়ান অঞ্চলের দিকে যাতায়াত করেন। বাংলাদেশ তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হতে পারে। আমরা তাদের এখানে আনতে পারি। এরপর মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা অন্য গন্তব্যে পাঠাতে পারি। তবে এজন্য আমাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সেবা নিশ্চিত করতে হবে।










