এতে প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৫৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এবং মেয়াদ চার বছর বাড়িয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

গতকাল সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধন)’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান। সভায় আরো সাত প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় সংশোধনীর অধীনে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটির ব্যয় প্রথম সংশোধনে অনুমোদিত ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি থেকে প্রায় ৯ হাজার ৪৯৩ কোটি বেড়ে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, ঢাকা শহরের উত্তরাঞ্চল তথা সাভার, আশুলিয়া, নবীনগর ও ইপিজেডসংলগ্ন শিল্প এলাকার যানজট নিরসন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ২০১৭ সালে এ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। তখন নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। মেয়াদ ধরা হয় ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। তবে ঋণ চুক্তি করতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠপর্যায়ে দেরিতে কাজ শুরু হয়। এ কারণে প্রকল্পটি সংশোধন করে মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যয়ও বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা করা হয়। ৫৮ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হওয়ার পর গত ডিসেম্বরে দ্বিতীয়বার প্রকল্পটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয় সেতু কর্তৃপক্ষ। সে সময় ব্যয় ৯ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার অনুমোদন না করায় তা পিছিয়ে যায়। বিএনপি সরকার গঠনের পর পুনরায় প্রকল্পটি দ্বিতীয় সংশোধনীর প্রস্তাব দেয় সেতু কর্তৃপক্ষ। তবে বড় প্রকল্প হওয়ায় এটি পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে ছয় মাস পর নতুন ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সংশোধনীতে প্রকল্পটির সঙ্গে নতুন তিনটি অঙ্গ যুক্ত হচ্ছে। এগুলো হলো বাইপাইল ইন্টারসেকশন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল এবং নির্মাণাধীন পাতাল মেট্রোরেলের (এমআরটি লাইন-১) সঙ্গে সরাসরি সংযোগ। ফলে অগ্রগতি ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ অগ্রগতির পর নতুন করে ব্যয় বাড়ল ৫৪ শতাংশ।

নতুন প্রস্তাবে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন প্রায় ৭৬ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা হবে। অন্যদিকে চীনের অর্থায়ন ৩৭ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ২৪২ কোটি টাকা হবে। জমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর, নকশা সংশোধন ও প্রকল্পে নতুন উপাদান যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদও বেড়েছে। এর মধ্যে দুই বছরের ডিফেক্ট লায়াবিলিটি সময়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ব্যয় বাড়ার কারণ হিসেবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘‌ঢাকা আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের কাজ ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের খরচটা এখন বেড়েছে দুটো কারণে—একটা হচ্ছে মূলত ডলার রেটে বড় আকার ও ভ্যাট, ট্যাক্সে পরিবর্তন। এছাড়া নতুন একটা অঙ্গ সংযোজন হয়েছে। সেই সঙ্গে কিছু ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর, যেটা মূল ডিপিপিতে সেখানে ছিল না। যার ফলে ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর ও আরো পাঁচটি নতুন অঙ্গ সংযোজনের খরচ বেড়েছে।’

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে তিনটি নতুন ও পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পের অর্থ সংস্থানে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকছে ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি এবং প্রকল্প ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৪৯২ কোটি টাকার ‘সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (জিএসআইডিপি-২)’ (প্রথম সংশোধন), ২ হাজার ৮২ কোটি টাকার ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’ এবং ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্পে’ ৩৬৮ কোটি টাকা বেড়েছে। এছাড়া ১ হাজার কোটি টাকার ‘দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প’ (তৃতীয় সংশোধন), ৭২৯ কোটি টাকার ‘একটি মূল্যায়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) ও দুটি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন’ ও ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, সিলেট বিভাগ’ (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্পের ব্যয় কমেছে ১১৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে ‘মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয় বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোয় ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন’ (দ্বিতীয় সংশোধন) প্রকল্পে ৮১ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত ১১ প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।