প্রায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ-৫ ও ৬ এবং সুনামগঞ্জের সুনেত্র-২ কূপ খনন করা হবে। প্রকল্পটি গত বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
পরিকল্পনা কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় তিনটি কূপ খনন, ভূমি উন্নয়ন, কূপ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় সারফেস ফ্যাসিলিটি নির্মাণ এবং গ্যাস উৎপাদন উপযোগী অবকাঠামো তৈরি করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাপেক্স। এর সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি)। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) থেকে ৫৮৩ কোটি এবং বাপেক্সের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১৪৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। বর্তমানে বেগমগঞ্জ-৩ ও ৪ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক ১১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হয়। ফলে আরো গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি আরো তিনটি কূপ খনন করা হয় তাহলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক আনুমানিক ৩৫ এমএমএসসিএফ গ্যাস যুক্ত করা সম্ভব হবে। এখান থেকে উত্তোলনযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৭১১ বিসিএফ, যার বাজারদর ১ লাখ ২০ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। একই সঙ্গে এখান থেকে প্রাপ্য গ্যাস জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সহায়ক হবে। বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারের অংশ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে প্রকল্পটি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, সরকার এখন নির্বাচনী ইশতাহারের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রকল্পকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বাপেক্স দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে কাজ করে। বেগমগঞ্জে আরো গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেজন্য তারা এসব কূপ খনন করতে চায়। আমাদের দেশীয় চাহিদা মেটাতে হলে দেশের ভেতরে নিজস্ব অর্থায়নে গ্যাস উত্তোলন লাভজনক। তবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাপেক্সের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রয়েছে কিনা, সে প্রশ্ন প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় তোলা হয়।
তিনটি মূল্যায়ন ও অনুসন্ধান কূপ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পের আওতায় ১০ দশমিক ৬১ একর ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন করা হবে। বেগমগঞ্জ-৫ ও ৬ কূপ খননের জন্য রিগ ফাউন্ডেশন নির্মাণ, স্থানীয় ও বিদেশী মালামাল ও সরঞ্জাম ক্রয় এবং গ্যাস পাওয়া সাপেক্ষে কূপ পরীক্ষা ও সম্পন্নকরণের কাজ করা হবে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে প্রকল্পটির গুরুত্ব বিবেচনায় একনেক এটি অনুমোদন করেছে।
এ বিষয়ে বাপেক্সের ওয়্যারলাইন লগিং সার্ভিসেস উপবিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক ও প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের চাহিদা পূরণ ও স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে দৈনিক ৩৫ এমএমএসসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। আমাদের যেহেতু এখনো চাহিদার তুলনায় গ্যাসের জোগান কম সেক্ষেত্রে এটি বড় ভূমিকা রাখবে।’
কূপ খনন করলেও বাপেক্সের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের। পিইসি সভার সুপারিশে বলা হয়েছে, বাপেক্সের বর্তমানে চলমান প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বাস্তবায়নোত্তর প্রকল্পগুলোয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পে কম্পিউটার, আসবাবপত্র, পরিবহন ব্যয় প্রায় সব খাতে ব্যয় কমাতে বলা হয়েছে।
বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরাও। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন কূপ খননের উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও এর পাশাপাশি দ্রুত সিসমিক জরিপ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গভীর স্তরে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের অফশোর ব্লকগুলোয় অনুসন্ধান কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে নেয়া প্রয়োজন। কারণ দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু অনশোর গ্যাস ক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল থাকা যথেষ্ট নয়।










