‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ নীতি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক বোঝাও অনেক কমানো যাবে বলে মনে করছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে দেশে নবায়নযোগ্য শক্তি খাত পুরোদমে চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত বৃহদাকার ও গৃহস্থালিতে সৌর বিদ্যুতের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে সব ধরনের আমদানি শুল্ক কমানোরও জোর দাবি তুলেছেন তারা।

আজ শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) বিয়াম ফাউন্ডেশনে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ জ্বালানি সমৃদ্ধি ২০৫০ সম্মেলনের সমাপনী দিনে তারা এসব দাবি তোলেন।

তারা জানান, বাংলাদেশে বিদ্যুতের চড়াদামের অন্যতম কারণই হচ্ছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে দেয়া ক্যাপাসিটি পেমেন্ট। এ পেমেন্ট গত কয়েক বছর ধরে বিদ্যুৎ খাতের ব্যয়ও বিপুল পরিমাণে বাড়িয়েছে।

বুয়েটের অধ্যাপক ইজাজ হোসেন সম্মেলনে প্রশ্ন করেন, কেন এখন পর্যন্ত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কোনো নেট-জিরো টার্গেট ঠিক করতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‌পরিবেশ মন্ত্রণালয় এখনো বাংলাদেশের নেট-জিরো লক্ষ্য ঘোষণা করেনি। আর এ কারণেই দেশে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ছে না।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেনের বক্তব্যের প্রতি উত্তরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশনে (এনডিসি) দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো অর্জন করাও খুব চ্যালেঞ্জিং। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সমর্থন পেলে তা অর্জন করা সম্ভব। তখন নেট-জিরো লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশও ঠিক করতে পারবে।

সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সমন্বিত বিদ্যুৎ-জ্বালানি মহাপরিকল্পনা (আইইপিএমপি) অবশ্যই বাতিল হওয়া উচিত। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বিদ্যুৎ মিশ্রণে নবানয়নযোগ্য শক্তির পরিমাণ বাড়ানো এমন মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে নতুন একটি বিদ্যুৎ-জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বানানো ও কার্যকর করা উচিত।

বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি জাহিদুল আলম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সংশ্লিষ্ট মালামালের আমদানি শুল্ক কমানো না গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ কখনোই ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ-এর লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারবে না।

নীতিনির্ধারক, অ্যাকাডেমিক, গবেষক, থিংক ট্যাঙ্ক, জ্বালানি কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জলবায়ু ও মানবাধিকার কর্মী, আদিবাসী সম্প্রদায়, তরুণ, ছাত্র এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রায় ৪০০ প্রতিনিধির পক্ষে বিডব্লিউজিইডির সদস্য সচিব হাসান মেহেদী শেষ দিন সম্মেলনের ঘোষণা পাঠ করেন।

এ ঘোষণায় নীতি সমন্বয়, প্রাতিষ্ঠানিক ও পদক্ষেপগত সংস্কার, কার্যকর আর্থিক পদ্ধতি, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং আরো উন্নত সামাজিক ও পরিবেশগত সুশাসনের মতো বিষয়ে জরুরিভিত্তিতে মনোযোগ দেয়ার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি), সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই), বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল ল’ইয়ারস এসোসিয়েশন (বেলা), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ), অ্যাকশন এইড বাংলাদেশসহ প্রায় দুই ডজন সংগঠন যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।