বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়া এর অধীনে এলাকায় কোনো নির্মাণকাজ বা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না। বগুড়া সিটি করপোরেশন ও সংলগ্ন এলাকা নিয়ে একটি সংবিধিবদ্ধ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করে পর্যায়ভিত্তিক পরিকল্পনার আওতায় নগর উন্নয়ন পরিচালনার বিধান রেখে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার ১৪তম বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আইনের খসড়াটি উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠক শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বগুড়া ও এর সন্নিহিত এলাকা সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ, দুর্যোগ-সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে।

আইন অনুযায়ী, বগুড়া সিটি করপোরেশন ও সংলগ্ন এলাকা নিয়ে চেয়ারম্যান, সার্বক্ষণিক সদস্য এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

কর্তৃপক্ষ গণশুনানি ও প্রাক-প্রকাশসহ বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প এবং স্থানীয় পরিকল্পনা পর্যন্ত একটি পর্যায়ভিত্তিক পরিকল্পনা কাঠামো নির্ধারণ করবে। এ কাঠামোর আওতায় কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো নির্মাণকাজ বা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না।

আইনে নদী-নালা, জলাশয়, খেলার মাঠ এবং উন্মুক্ত স্থান সুরক্ষায় কঠোর পরিবেশগত বিধিনিষেধ আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমি পুনর্বিন্যাস (ল্যান্ড রিঅ্যাডজাস্টমেন্ট), যেখানে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ মালিকের সম্মতি প্রয়োজন হবে, এবং ভূমি পুনঃউন্নয়ন (ল্যান্ড রিডেভেলপমেন্ট) পদ্ধতির মতো আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কৌশল প্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া অননুমোদিত নির্মাণ, জলাধার ভরাটসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তহবিল গঠন, উন্নয়ন ফি ধার্য, ঋণ গ্রহণ এবং নিরীক্ষার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।