দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার ইতালি দূতাবাসে আটকে আছে ইতালি যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাসপোর্ট। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে। আবার অনেকে মধ্যপ্রাচ্যের কাজ ছেড়ে ইতালি যাওয়ার আশায় দেশে ফিরে ভিসা নিয়ে দূতাবাসে পাসপোর্ট জমা দেন। দেড়-দুই বছর পার হয়ে গেলেও অনেকেই পাসপোর্ট ও ভিসা ফেরত পাননি বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার সমাধান না হওয়ায় দূতাবাসের সামনে মানববন্ধন করেন শত শত ইতালি গমনেচ্ছু কর্মী। গতকাল সকালে গুলশানে ইতালি দূতাবাসের সামনে তারা এ মানববন্ধন করেন। তবে পুলিশের বাধায় দূতাবাসের সামনে তাদের বেশিক্ষণ থাকতে দেয়া হয়নি।
মানববন্ধনকারীরা জানান, অনেক কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বসবাস করতেন। ইতালি যাওয়ার ইচ্ছায় তারা দেশে ফেরেন। ইতালি থেকে স্পন্সর ভিসা নিয়ে ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে তারা ইতালি দূতাবাস বরাবর পাসপোর্ট জমা দেন। কিন্তু দেড়-দুই বছর পার হলেও তারা পাসপোর্ট, ভিসা কোনোটাই পাননি। এতে বেশির ভাগ কর্মীর ইতালির ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এমনকি অনেকের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ভিসার মেয়াদও শেষের পথে। এতে তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমরা এ দেশেও থাকতে পারছি না, অন্য দেশেও যেতে পারছি না। আমাদের সবার ভিসার মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। দূতাবাস আমাদের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে। তারা যদি আমাদের ভিসা না দিয়েও পাসপোর্টগুলো ফেরত দিত তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে ফিরে যেতে পারতাম। আমাদের দাবি, হয় দ্রুত ভিসা দিক, না হয় ভিসা বাতিল করে পাসপোর্ট ফেরত দিক।’
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘দূতাবাসে আমাদের পাসপোর্ট জমা আছে। আমরা ভিএফএস গ্লোবালে গেলে তারা বলে এটা আমাদের কোনো দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। আপনারা দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। কিন্তু দূতাবাসে আমাদের ঢুকতে দেয় না, কথা বলার কেউ নেই। আমরা আমাদের চাকরি হারাতে চাই না। তাই আমাদের ভিসা দিক না হয় পাসপোর্ট ফেরত দিক।’
গুলশান থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মানববন্ধন করতে আসা কর্মীদের দূতাবাস থেকে মানববন্ধন করতে নিষেধ করা হয়েছিল। আমি যোগাযোগ করেছিলাম যাতে প্রতিনিধি নিয়ে বসা যায়। কিন্তু দূতাবাস থেকে বলা হয়েছে, যেহেতু মানববন্ধন করে ফেলেছে, এখন আর কারো সঙ্গে বসতে তারা আগ্রহী নয়।’










