বাংলাদেশে বাজার অনুসন্ধান, স্থানীয় এজেন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটর নিয়োগ এবং লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে চীনের ইউনান প্রদেশ। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরসহ বাংলাদেশের বাণিজ্যিক অবকাঠামো সম্পর্কে জানতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউনান প্রাদেশিক বাণিজ্য বিভাগের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধি দল।

আজ রোববার ঢাকায় বাংলাদেশ ও ইউনান প্রদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সফররত চীনা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ হাসান আরিফ।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউনানের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার, নতুন বাজার ও ব্যবসায়িক সংযোগ সৃষ্টি এবং পারস্পরিক বাণিজ্যের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। ইউনান প্রাদেশিক বাণিজ্য বিভাগের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধি দলে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারাও অংশ নেন।

বৈঠকে বাংলাদেশী সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়িক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট বেসরকারি খাতের সঙ্গে ইউনানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। একই সঙ্গে বাজার অনুসন্ধান, স্থানীয় এজেন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটর নিয়োগ, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের আমদানি-রফতানি এবং লজিস্টিকস সেবা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় চট্টগ্রাম বন্দরসহ বাংলাদেশের বাণিজ্যিক অবকাঠামো সম্পর্কে জানার বিষয়ে ইউনান প্রতিনিধি দলের আগ্রহের কথাও আলোচনায় আসে।

ইউনান প্রাদেশিক বাণিজ্য বিভাগের প্রস্তাবনায় বাংলাদেশে নির্মাণসামগ্রী, প্রকৌশল পণ্য ও কৃষি যন্ত্রপাতির বাজারের চাহিদা যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি স্থানীয় প্রদর্শনী ও বাণিজ্যিক বাজার পরিদর্শন, বিতরণ ও লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং কৃষি ও হালকা শিল্পজাত পণ্যের রফতানি সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশী টেক্সটাইল ও বিশেষায়িত কৃষিপণ্যের সঙ্গে ইউনানের পণ্যের বাণিজ্যিক সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ বাংলাদেশ ও ইউনানের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরো কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে সরকারি পর্যায়ের সহযোগিতার পাশাপাশি ব্যবসায়ী-টু-ব্যবসায়ী (বিটুবি) যোগাযোগ, বাজার সংযোগ এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং বাংলাদেশ ও ইউনানের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর বাণিজ্যিক সংযোগ তৈরির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে।