সীমান্ত দিয়ে যেন বাংলাদেশের কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসী পালাতে না পারে, সে ব্যাপারে আরো সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
উপদেষ্টা আজ সকালে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের শহিদ শাকিল আহমেদ হলে বিজিবি দিবস–২০২৫ ও পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, সীমান্ত সমস্যা সমাধানে দেশের স্বার্থ শতভাগ রক্ষা করতে হবে। জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রেখে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় অত্যন্ত ন্যায়ানুগ পন্থায় নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবিকে আরো পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে কৌশলী হতে হবে। সীমান্তে চোরাকারবারিদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
বক্তব্যের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধে বিজিবির সাহস ও আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। একইসঙ্গে তিনি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ছাত্র-জনতার প্রতি সম্মান জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিজিবি একটি গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। বর্তমানে বিজিবি একটি ‘ত্রিমাত্রিক বাহিনী’ হিসেবে সীমান্ত সুরক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা এবং জনকল্যাণমূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, ‘চেইন অব কমান্ড’-এর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও আনুগত্য বজায় রাখবেন। সীমান্ত রক্ষার পবিত্র দায়িত্বের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার যেকোনো দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করবেন।
তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে বিজিবি তার গৌরবময় অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে।
বিজিবির সার্বিক উন্নয়নে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ অন্য কর্মকর্তা ও বিজিবি সদস্যরা।










