নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি পাঁচতলা বাড়ির সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে এক অন্তঃসত্ত্বাসহ দুই সহোদর নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে বন্দরের দীঘিরপাড় মোল্লাবাড়ি এলাকায় রাবেয়া মঞ্জিল নামের এক ভবনের সেফটিক ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়। এতে আশপাশের চারটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় আহত হন আরো পাঁচজন।

নিহতরা হলেন রাবেয়া মঞ্জিলের নিচতলার ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া খোরশেদ আলমের দুই ছেলে মাসনূন (১৩) ও জিসান (৮) এবং পাশের টিনশেড ভবনের বাসিন্দা কবির হোসেনের স্ত্রী লাবনী আক্তার। লাবনী আক্তার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল সকালে বন্দরের দীঘিরপাড় ৪৬১/১ উইলসন কবরস্থান রোড এলাকায় রফিকুল ইসলাম হাসানের পাঁচতলা বাড়ির নিচতলার ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে সেপটিক ট্যাংকের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে নিচতলার ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া খোরশেদ আলমের দুই ছেলে মাসনূন ও জিসান ঘটনাস্থলে নিহত হয়। বিস্ফোরণে পাশের বাড়ির রতন মিয়ার চারতলা ভবনের দেয়াল ধসে একটি টিনশেড ভবনের ওপর পড়ে। এতে দেয়াল চাপা পড়ে টিনশেড ভবনের বাসিন্দা লাবনী আক্তার গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। খবর পেয়ে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকারসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা বিস্ফোরণে যে চারটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ওই ভবনগুলোর বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আনুমানিক সকাল ৬টার দিকে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখে খোরশেদ আলমের স্ত্রী রুনা আক্তার বাঁচাও বাঁচাও বলে চিত্কার করছেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় খোরশেদ আলমের দুই ছেলে মাসনূন ও জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বন্দর ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার জিন্নাত আলী খান জানান, ভবনটি নির্মাণের ত্রুটির কারণে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, সকাল ৬টায় বিস্ফোরণের পর আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ও সহোদর দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এ সময় আরো পাঁচজন আহত হন।

তিনি জানান, কেন কী কারণে সেপটিক ট্যাংকের বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভবন নির্মাণে কোনো ত্রুটি ছিল কিনা, তা সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলতে পারবেন। তাদের রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।