রাশিয়ায় পূর্বাভাসের তুলনায় গত মাসে ভালো ফলন ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তি উৎপাদনের কারণে বিশ্বব্যাপী গমের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। পণ্যটির দাম সম্প্রতি গত চার মাসে সর্বনিম্নে নেমেছে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিনের ব্যবধানে এশিয়ার দেশগুলো গম আমদানি বাড়িয়েছে। বুলগেরিয়া, রাশিয়া, রোমানিয়া ও ইউক্রেনের মতো কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে গম আমদানি করছে দেশগুলো। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
এ বিষয়ে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জানান, এশিয়ার আটা ও পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বুলগেরিয়া, রাশিয়া, রোমানিয়া ও ইউক্রেন থেকে আগস্ট-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টন গম কেনার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
অন্য এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘চলতি বছরের শুরুতে বিশ্বব্যাপী দাম বেড়ে যাওয়ার পর গম ক্রয় অনেক কমিয়ে দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে সম্প্রতি পণ্যটির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। আমদানিতে পুনরায় সক্রিয় হয়েছেন আট-ময়দাসহ পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকরা।’
আরো জানান, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়ীরা ময়দা তৈরির জন্য কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে গম আমদানি করছেন। অন্যদিকে ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের আমদানিকারকরা পশুখাদ্যের জন্য গম আমদানি করছেন।
ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যমতে, কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে মে মাসে রফতানীকৃত ১১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রোটিনযুক্ত উচ্চ মানের ময়দার দাম ছিল টনপ্রতি ৩০০-৩১০ ডলার। সম্প্রতি এটির দাম কমে প্রতি টনে ২৬৫-২৭০ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে পশুখাদ্য তৈরির জন্য গম প্রতি টন ২৫৫-২৬০ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘গমের বাজার দ্রুত নিম্নমুখী হচ্ছে। চলতি মাসে বাংলাদেশ আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য রাশিয়া থেকে গমের চারটি প্যানাম্যাক্স কার্গো বা প্রায় দুই লাখ টন গম আমদানির জন্য একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।’
চীন বিশ্বের বৃহত্তম গম আমদানিকারক দেশ। তবে দেশটি সাধারণত অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও ইউরোপ থেকে গম আমদানি করে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ডাটা অনুযায়ী, বিশ্বে এশিয়ার দেশগুলো গমের নিট আমদানিকারক। বিশ্বব্যাপী আমদানীকৃত গমের প্রায় ৩০ শতাংশেরই গন্তব্য হলো দেশগুলো।










