সম্প্রতি প্রকাশিত বিএসইসির নথিতে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতার চিত্র উঠে এসেছে।
২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট দেয়া বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেয়নি অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল। সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অর্থবছর শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে এ হিসাব জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও হিসাব কমিশনে আর্থিক প্রতিবেদন জমা পড়েনি।
এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাখ্যা চায় বিএসইসি। জবাবে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল জানায়, কমিশনের চলমান অনুসন্ধানের কারণে তাদের ব্যবস্থাপনায় থাকা এমটিবি ইউনিট ফান্ড ও অ্যালায়েন্স সন্ধানী লাইফ ইউনিট ফান্ডের লেনদেন স্থগিত ছিল। ফলে সংশ্লিষ্ট তহবিলগুলোর নিরীক্ষা শেষ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে আগের বছরেও একই ধরনের বিলম্বের নজির রয়েছে। ২০২২ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাবও নির্ধারিত সময়ে জমা দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ওই হিসাব ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর জমা দেয়া হয়। ফলে ২০২২ ও ২০২৩ দুই অর্থবছরের হিসাব দাখিলের ক্ষেত্রেই নিয়মভঙ্গের বিষয়টি বিএসইসির বিবেচনায় আসে।
শুধু হিসাব দাখিল নয়, প্রতিষ্ঠানটির লিখিত ব্যাখ্যায় আরো কয়েকটি সমস্যার কথা উঠে এসেছে। অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের দাবি, মূল্য সংযোজন কর ও আয়করসংক্রান্ত দায়িত্ব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে রিটার্ন ও কর জমা, যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কাছে বিধিবদ্ধ দাখিল, বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন এবং করপোরেট সুশাসনের শর্ত পূরণেও তারা সমস্যায় পড়েছে।
২৯ জুনের শুনানির পর প্রতিষ্ঠানটি আবারো লিখিত বক্তব্য দিয়ে জানায়, হিসাব জমা দিতে না পারা ইচ্ছাকৃত নয়। তবে কমিশন তাদের ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা লঙ্ঘনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জরিমানা আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়। বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। অন্যথায় সিকিউরিটিজ আইন মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।










