২০২১-২২ বিপণন মৌসুমের জন্য বৈশ্বিক গমের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিল (আইজিসি)। সংস্থাটি জানায় চলতি বিপণন মৌসুমে বৈশ্বিক গমের উৎপাদন হ্রাস পেয়ে দাঁড়াতে পারে ৭৮ কোটি ২০ লাখ টন। এটি ২৯ জুলাই আইজিসির দেয়া পূর্বাভাসের চেয়ে প্রায় ৬০ লাখ টন কম। উৎপাদন পূর্বাভাসে হ্রাসের শঙ্কা সত্ত্বেও তা গত বছরের মোট উৎপাদিত গমের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেশি বলে জানায় আইজিসি। ২০২০-২১ বিপণন মৌসুমে বৈশ্বিক গম উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭৭ কোটি ৩০ লাখ টন। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।

কানাডা, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র গম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা-সংক্রান্ত পূর্বাভাস কমিয়ে আনার কারণে বৈশ্বিক উৎপাদন পূর্বাভাসে এ হ্রাসের চিত্র দেখা দিয়েছে বলে জানায় আইজিসি। তবে বর্তমানে বৈশ্বিক ৭৮ কোটি ২০ লাখ টন গম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ বলেও জানায় আইজিসি।

এ পরিস্থিতিতে ২০২২ সালের জন্য উদ্বৃত্ত থাকা গমের পরিমাণসংক্রান্ত পূর্বাভাসও কমিয়ে এনেছে আইজিসি, তবে তা গমের উৎপাদনসংক্রান্ত পূর্বাভাসের মতো এতটা বৃহৎ আকারে হ্রাস করা হয়নি। আগামী বছরের জন্য মজুদ থাকা গমের পরিমাণ ২৭ কোটি ৮০ লাখ টন দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করছে আইজিসি, যা জুলাইয়ে পূর্বাভাসকৃত পরিমাণের চেয়ে ২০ লাখ টন কম ও চলতি বছরের জন্য ধারণা করা পূর্বাভাসের তুলনায় ১০ লাখ টন কম। চলতি বছরের শেষে বৈশ্বিক মোট গম মজুদের পরিমাণ ২৭ কোটি ৯০ লাখ টন দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করেছিল আইজিসি।

জুলাইয়ে প্রকাশিত ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমের জন্য বৈশ্বিক গমের ব্যবহারসংক্রান্ত পূর্বাভাসের পরিমাণও ৪০ লাখ টন পরিমাণ হ্রাস করেছে আইজিসি। জুলাইয়ে এ পূর্বাভাসের পরিমাণ ছিল ৭৮ কোটি ৩০ লাখ টন। তবে এটি গত বছরের বিশ্বব্যাপী ব্যবহূত গমের পরিমাণ ৭৭ কোটি টনের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। আইজিসি জানায়, এ হ্রাসের পরিমাণ নতুন ফসলি বছরের জন্য গমের ব্যবহার হ্রাস পাওয়ার চিত্রকে প্রতিফলিত করে।

২০২১-২২ বিপণন মৌসুমের জন্য বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের মোট পরিমাণ ২২৮ কোটি ৩০ লাখ টন দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল আইজিসি, যা জুলাইয়ে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ১ কোটি ২০ লাখ টন কম কিন্তু গত বছর উৎপাদিত মোট শস্যের তুলনায় সাত কোটি টন বেশি। চলতি বছরের মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের মোট উৎপাদিত ২২১ কোটি ৩০ লাখ টনের চেয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

আগামী বছরের জন্য বৈশ্বিক শস্যের মজুদ ৫৮ কোটি ৯০ লাখ টন দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইজিসি, যা জুলাইয়ে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ৫০ লাখ টন কম। একই সঙ্গে এটি ২০২১ সালের শুরুতে মজুদ থাকা শস্যের পরিমাণ ৫৯ কোটি ৪০ লাখ টনের চেয়ে দশমিক ৮ শতাংশ কম।

চলতি বছরও বৈশ্বিক শস্য মজুদের পরিমাণ হ্রাস পেলে তা বৈশ্বিক উদ্বৃত্ত শস্যের পরিমাণ হ্রাসের ঘটনা টানা পাঁচ বছর অতিবাহিত করবে। গম ছাড়াও যব, মিল্লেট ও ট্রাইটিকেল মজুদের পরিমাণও সংকুচিত হবে। তবে এ সময়ে ভুট্টা ও রাইয়ের মজুদ ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে বাড়বে।

আইজিসি জানায়, ২০২১-২২ সালে বৈশ্বিক শস্য বাণিজ্যের পরিমাণ ১ কোটি ২০ লাখ টন কমে ৪১ কোটি ৫০ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। এমনটা ঘটলে তা হবে গত তিন বছরের মধ্যে শস্য বাণিজ্য হ্রাসের প্রথম ঘটনা।