ভারতের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে মন্দা দেখা দিয়েছে।
জুলাইয়ে পণ্যটির আমদানি কমে এক বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে।
জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে খাতসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, জুলাইয়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কার্যক্রমের কারণে আমদানি হ্রাস পায়।
পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে সংকুচিত চাহিদাও আমদানি হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে।
তবে চলতি মাসে আমদানি ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
জুলাইয়ে ভারত দৈনিক ৩৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে।
জুনের তুলনায় আমদানি ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
তবে এক বছরের ব্যবধানে আমদানি ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।
ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে আমদানি হয় ১ কোটি ৫০ লাখ ২০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, যা প্রায় দৈনিক ৩৪ লাখ ব্যারেলের সমান।
পণ্যবাহী জাহাজের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রেফিনিটিভের বিশ্লেষক এহসানুল হক বলেন, পরিশোধন কেন্দ্রগুলোতে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে জুলাইয়ে আমদানি নিম্নমুখী ছিল।
এছাড়া জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং মজুদ এপ্রিল ও মে মাসে চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এটিও আমদানি হ্রাসের অন্যতম একটি কারণ।
সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, চেন্নাই পেট্রোলিয়ামের ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি ও পেট্রোকেমিক্যাল এবং ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশনের গুজরাট এবং মাথুরা প্লান্টসহ বেশ কয়েকটি পরিশোধন কেন্দ্রে নিম্নমুখী চাহিদার কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন হ্রাস পেয়েছে।
এছাড়া হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মুম্বাই ও ভাইজাগ রিফাইনারি, আইওসিয়ের ভারাওনি হালদিয়া ও প্রদীপ প্লান্ট এবং ভারত পেট্রোলিয়ামের কোচি রিফাইনারিসহ বেশকিছু পরিশোধন কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে আমদানি বন্ধ রাখে।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে ভারত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে।
কিন্তু বেসরকারি পরিশোধন প্রতিষ্ঠানগুলো এসব দেশের পরিবর্তে কানাডার স্বল্প মূল্যের ভারি জ্বালানি তেল ক্রয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
ফলে গত বছরের জুনের পর থেকে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি লক্ষণীয় হারে হ্রাস পেয়েছে।
তবে ভারতের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের হিস্যা ৫৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।










