ইস্পাতের বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস কমিয়েছে ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউএসএ)। চলতি বছর ধাতুটির চাহিদা ১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়লেও তা ডব্লিউএসএর আগের পূর্বাভাসের চেয়ে কম হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত ব্যবহারকারী দেশ চীনে নতুন নতুন অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প এ প্রবৃদ্ধিতে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে চাহিদা নিম্নমুখী থাকবে।
ডব্লিউএসএ এর আগে গত এপ্রিলে ইস্পাতের বৈশ্বিক চাহিদা নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছিল। তখন ২ দশমিক ৩ শতাংশ চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল ডব্লিউএসএ। তবে চলতি মাসে তা সংশোধন করে ১ দশমিক ৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
ডব্লিউএসএর অর্থনীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ম্যাক্সিমো ভেদোয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব ইস্পাতের চাহিদায় পড়তে শুরু করেছে। এ খাতে সংকুচিত মুদ্রানীতির প্রভাব দেরিতে দৃশ্যমান হওয়ায় আগামী বছর অগ্রসর অর্থনীতির দেশগুলোয় ইস্পাতের চাহিদা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া ধীর হবে।’
ডব্লিউএসএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছর বিশ্বজুড়ে ১৮৫ কোটি টন ইস্পাতের চাহিদা তৈরি হবে। চাহিদা বৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ১ দশমিক ৯ শতাংশে। বৈশ্বিক ইস্পাত ব্যবহারের অর্ধেকই হয় চীনে। চলতি বছর দেশটিতে চাহিদা ২ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী বছরের চাহিদা পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত হয় ডব্লিউএসএ। গ্রুপটি জানায়, চলতি বছরের বাকি সময়ে চীনে প্রপার্টি মার্কেটে স্থিতি ফিরতে পারে, যা চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে রসদ জোগাবে।
বিশ্বজুড়ে উচ্চ সুদহার ইস্পাতের চাহিদায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভবন নির্মাণ ও ভোক্তা টেকসই পণ্য খাতে চাহিদা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে অটোমোবাইল খাতে চাহিদা পুনরুদ্ধার অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, চলতি বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেনে ইস্পাতের চাহিদা ৫ দশমিক ১ শতাংশ কমতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ১ দশমিক ১ ও জাপানে ২ শতাংশ কমার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আগামী বছর যথাক্রমে ৫ দশমিক ৮, ১ দশমিক ৬ ও দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে।
ডব্লিউএসএর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে বিশ্বে মোট ১২৫ কোটি ৬৪ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। বিশ্বের মোট ৬৩টি দেশ মিলে এ পরিমাণ ইস্পাত উৎপাদন করেছে।
পরিমাণগত দিক দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী অঞ্চল এশিয়া ওশেনিয়া। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে অঞ্চলটির মোট উৎপাদন ৯৪ কোটি ৪৮ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলোয় আট মাসে মোট ১ কোটি ৬ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড স্টিলের তথ্যমতে, চীন একই সঙ্গে বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনকারী ও ব্যবহারকারী। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটির মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৭১ কোটি ২৯ লাখ টনে। দ্বিতীয় শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ ভারত আট মাসে ৯ কোটি ২২ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে। একই সময় জাপানে উৎপাদন হয়েছে ৫ কোটি ৮৪ লাখ টন।










