ইন্দোনেশিয়ায় চলতি বছর চাল উৎপাদন ২ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটির পরিসংখ্যান ব্যুরো। গতকাল এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে উষ্ণ আবহাওয়ায় ধান উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে উৎপাদন কমে দাঁড়াতে পারে ৩ কোটি ৯ লাখ টনে। খবর রয়টার্স।

পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, পূর্বাভাসটি আগস্টের ডাটার ওপর এবং সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রত্যাশিত ফলনের ভিত্তিতে করা হয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত প্রধান আমালিয়া আদিনিঙ্গার বিদ্যাসান্তি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘‌এল নিনোর কারণে দীর্ঘস্থায়ী খরার ফলে অনেক এলাকায় চাষাবাদ ও ফসল সংগ্রহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

প্রাক্কলনে, চলতি বছর ১ কোটি ২ লাখ হেক্টর বা ২ কোটি ৫২ লাখ একর জমিতে ধান চাষাবাদ করার কথা বলা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে আবাদি জমির পরিমাণ কমেছে ২ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর। ২০২২ সালে ১ কোটি ৪ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছিল।

আবাদি জমির পরিমাণ কমার পাশাপাশি চাল আমদানির পরিমাণও বেড়েছে দেশটির। ব্যুরো জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ায় জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে ১৭ লাখ ৯০ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের ২ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৭ টনের চেয়ে অনেক বেশি। সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে থাইল্যান্ড থেকে। তালিকায় এর পরেই রয়েছে ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার।

দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ অর্থনীতির দেশটি এ বছর আরো ১৫ লাখ টন চাল আমদানির পরিকল্পনা করেছে। যদিও বছরের শুরুতে সরকার ২৩ লাখ টন চাল আমদানির কথা ভেবেছিল। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরকারের পরিকল্পনার চেয়েও বেশি চাল আমদানি করতে হচ্ছে দেশটিকে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে ২৭ কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, গত বছর দ্বীপদেশটিতে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছিল, যা দেশটির বিপুল জনসংখ্যার চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত ছিল না। ফলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ ধান উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও খাদ্যপণ্যটি আমদানি করতে বাধ্য হয় ইন্দোনেশিয়া।

চলতি বছর তাপমাত্রার কারণে এশিয়ার প্রধান ধান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় উৎপাদক ভারত অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রফতানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকটের কারণে বৈশ্বিকভাবে খাদ্যপণ্যটির দাম অন্তত ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে।