শুধু তা-ই নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষতস্থানে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধও সরবরাহ করবে। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের আবিষ্কৃত নতুন এ প্রযুক্তি চিকিৎসকদের দ্রুত সংক্রমণ নিরাময়ে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে এটি অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে আনবে, যা বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় উদ্বেগ। বিজ্ঞানবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে সম্প্রতি এ গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণেই মূলত ব্যাকটেরিয়া সাধারণ চিকিৎসার বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। ওষুধ যখন ঘন ঘন বা ভুল নিয়মে ব্যবহার করা হয়, তখন ব্যাকটেরিয়া নিজেদের মানিয়ে নেয় এবং একপর্যায়ে ওই ওষুধ আর কাজ করে না। নতুন এ স্মার্ট ব্যান্ডেজ বা ক্ষত ড্রেসিং প্রযুক্তিটি সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট সংক্রমণকে লক্ষ্য করে এ সমস্যার সমাধান করবে।

নতুন উন্নত এ ব্যান্ডেজ কেবল ক্ষত ঢেকে না রেখে বরং সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে সক্ষম। ‘হাইড্রোজেল’ নামের একটি বিশেষ উপাদানের মাধ্যমে ক্ষতস্থানটি সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এ ব্যান্ডেজ। এ হাইড্রোজেল মূলত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে নিঃসৃত ‘বিটা-ল্যাকটামেস’ এনজাইমের বা প্রোটিনের উপস্থিতি অনুযায়ী কাজ শুরু করে।

যখনই ক্ষতস্থানে ব্যাকটেরিয়ার এ এনজাইম ধরা পড়ে, তখন হাইড্রোজেলটি নিজে থেকেই গলে যায়। এ প্রক্রিয়ার ফলে ব্যান্ডেজে জমা থাকা অ্যান্টিবায়োটিক সরাসরি আক্রান্ত স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করে।

গবেষক দলটি ত্বকের ক্ষত থাকা ইঁদুরের ওপর এ উপাদানটি পরীক্ষা করে দেখেছেন। ফলাফলে দেখা গেছে, এ স্মার্ট হাইড্রোজেল মাত্র একবার ব্যবহারের মাধ্যমেই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ সম্পূর্ণ দূর হয়েছে। এমনকি এটি বাজারে প্রচলিত সাধারণ অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যান্ডেজের চেয়ে অনেক দ্রুত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে এবং ক্ষত নিরাময়ে সফল হয়েছে।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক অনিতা শুক্লা জানান, এ উপাদানটি ওষুধের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার সীমিত করে। তবে যখনই সংক্রমণের বিপদ দেখা দেয়, ঠিক তখনই এটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করে।

বর্তমানে কোনো ক্ষতস্থানে কী ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়েছে, তা জানতে পরীক্ষাগারে বা ল্যাবে পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। চিকিৎসকদের রোগীদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এ প্রচলিত পদ্ধতিতে বেশকিছুটা সময় লেগে যায়, যা গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হতে পারে।

গবেষক দলটি এরই মধ্যে এ স্মার্ট উপাদানের পেটেন্ট বা স্বত্ব নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য কাজ করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আধুনিক চিকিৎসাসেবায় এ প্রযুক্তি একটি বড় অগ্রগতি। বিশ্বজুড়ে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা ওষুধের কার্যকারিতা হারানোর ঝুঁকি যেভাবে বাড়ছে, তাতে ব্যান্ডেজের মতো সাধারণ চিকিৎসাসামগ্রীও এখন বড় স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন রূপ নিচ্ছে।