তামার বৈশ্বিক চাহিদা চলতি বছর এবং ২০২৪ সালে ২-৩ শতাংশ বাড়বে। আর ২০৩৫ সালের মধ্যে শিল্প ধাতুটির চাহিদা দাঁড়াবে ২০ শতাংশ।

এ সময় বছরে মোট চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াবে তিন কোটি টনে। বিশ্বজুড়ে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি, বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিশন গ্রিড ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ধাতুটির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার মূল প্রভাবকের ভূমিকা রাখবে এই প্রবৃদ্ধিতে। রাশিয়াভিত্তিক খনিজ অনুসন্ধান কোম্পানি নরনিকেল এক পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানিয়েছে। খবর এসএণ্ডপি গ্লোবাল।

২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে তামার চাহিদা ছিল ২ কোটি ৪৮ লাখ টন। সে তুলনায় ১৩ বছরের ব্যবধানে চাহিদা ৫২ লাখ টন বাড়বে বলে জানিয়েছে নরনিকেল। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বর্তমানে বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতির কারণে ধীর গতিতে বাড়ছে ধাতুটির চাহিদা। তবে দক্ষিণ আমেরিকায় উত্তোলন ব্যাহত হওয়া সত্ত্বেও বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দেয়নি। বরং বর্তমান উত্তোলন হার বাজার চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছে খনিজ অনুসন্ধান কোম্পানিটি।

নরনিকেলের পণ্যবাজার গবেষণা বিভাগের প্রধান পিটার ভারিউশিন এসএণ্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটসকে বলেছেন, ‘‌চলতি বছর তামা উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১ লাখ ৭৩ হাজার টনে, যা বৈশ্বিক চাহিদার ১ শতাংশেরও কম। তবে ২০২৪ সালে ধাতুটির বাজারে দশমিক ২ শতাংশ বা ৫৪ হাজার টন ঘটতি দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

নরনিকেল বলছে, চীনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তামার চাহিদাও বেড়ে যাবে। চলতি বছর তামার ব্যবহারে ২০২২ সালের চেয়ে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আসতে পারে। আগামী বছর ধাতুটির ব্যবহার ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ৬০ লাখ টনে। ২০২৩ সালে তামা উত্তোলন ২ শতাংশ এবং পরিশোধিত তামার উত্তোলন ৩ শতাংশ বাড়বে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছর খনি থেকে তামা উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াবে ২ কোটি ২৩ লাখ টনে। আগামী বছর উত্তোলন হবে ২ কোটি ৩০ লাখ টন। এ সময় দক্ষিণ আমেরিকা ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে তামার উত্তোলন বাড়বে। পাশাপাশি চীনের বিগলন ও পরিশোধন সক্ষমতার সম্প্রসারণ বিশ্বে পরিশোধিত তামার সরবরাহ বাড়াবে। ফলে চলতি বছর পরিশোধিত তামার পরিমাণ দাঁড়াবে ২ কোটি ৫৫ লাখ টনে এবং ২০২৪ সালে তা বেড়ে ২ কোটি ৬০ লাখ টনে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চীন একই সঙ্গে বিশ্বের শীর্ষ তামা সরবরাহকারী ও ব্যবহারকারী। এ বছর দেশটি বৈশ্বিক চাহিদার ৪৫ শতাংশ সরবরাহ করবে। আশা করা হচ্ছে, গত বছরের চেয়ে চীনে পরিশোধিত তামার উৎপাদন ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ১ কোটি ১৪ লাখ টনে। তবে একই সময়ে ব্যবহার প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার পূর্বাভাস এসেছে। ব্যবহার মাত্র ৫ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার টনে উঠতে পারে। তবে এ সংখ্যাও বৈশ্বিক চাহিদার ৫৭ শতাংশকে প্রতিনিধিত্ব করবে বলে আশা করা হচ্ছে।