তবে দেশটির অন্যতম আবাসন উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাল্টাস প্রপার্টি গ্রুপ’-এ প্রকল্প থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে। খবর বিবিসি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ডেভিড ইয়াংয়ের মতে, ‘ট্রাম্প’ ব্র্যান্ডটি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বাজারে ‘বিষাক্ত’ হয়ে উঠেছে। এছাড়া ইরান যুদ্ধসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈশ্বিক অস্থিরতাকে প্রজেক্ট বাতিলের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

» ভবনের উচ্চতা ও আভিজাত্য

মেগা প্রকল্পটির ঘোষণা দেয়া হয় তিন মাস আগে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গোল্ড কোস্টের ভবনটি হতো ৯১ তলা বিশিষ্ট একটি বিলাসবহুল হোটেল ও আবাসিক ভবন। নির্মাণ হলে ৩৩৫ মিটার (১ হাজার ১০০ ফুট) উচ্চতার ট্রাম্প টাওয়ারটি হতো অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ ভবন। এখানে ২৮৫টি হোটেল রুম ও ২৭২টি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থাকার কথা ছিল। এছাড়া এর ভেতরে দোকান, রেস্তোরাঁ এবং একটি এক্সক্লুসিভ বিচ ক্লাব তৈরির পরিকল্পনাও ছিল।

» পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার পর ট্রাম্প অর্গানাইজেশন ও অ্যাল্টাস প্রপার্টি গ্রুপের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে। ট্রাম্প অর্গানাইজেশন ওয়েবসাইট থেকে প্রকল্পের যাবতীয় তথ্য সরিয়ে ফেলেছে। সংস্থাটির দাবি, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাল্টাস প্রপার্টি গ্রুপ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আর্থিক বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের নির্বাহী পরিচালক কিম্বার্লি বেনজা বলেন, মাসের পর মাস আলোচনার পর তারা কেবল খালি প্রতিশ্রুতিই পেয়েছেন, কোনো বাস্তব কাজ হয়নি। তিনি ডেভিড ইয়াংয়ের ‘বৈশ্বিক অস্থিরতার অজুহাত’ দেয়াকে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার কৌশল হিসেবে অভিহিত করেন। অন্যদিকে ডেভিড ইয়াং দাবি করেন, তারা কেবল চুক্তির অবসান ঘটিয়েছেন। শর্ত পূরণে ব্যর্থতার কথা তিনি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, প্রকল্পটি এখনো সচল আছে এবং তারা অন্য কোনো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

» স্থানীয় রাজনীতি ও জনমত

গোল্ড কোস্টের মেয়র টম টেট জানান, প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা পড়েনি। এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ প্রকল্প নিয়ে তীব্র বিভাজন দেখা দিয়েছিল।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ উন্নয়নের বিরুদ্ধে একটি পিটিশনে ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছিলেন। বিপরীতে প্রকল্পের সমর্থন করেছেন ৩ হাজার ৬০০ জন।