কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির যুগে প্রবেশ করছে আধুনিক বিশ্ব। অপরিশোধিত জ্বালানি, প্রাকৃতিক গ্যাস কিংবা কয়লা; এসব দূষিত জ্বালানির বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সৌর, জল ও বায়ুবিদ্যুৎ। আগামী কয়েক দশকের মধ্যে পেট্রল কিংবা ডিজেলচালিত যানবাহনের জায়গা দখল করে নেবে ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি। পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য এসব জ্বালানি উৎপাদনে বিশ্ববাজারে বাড়ছে তামার চাহিদা। ক্রমবর্ধমান চাহিদায় সাড়া দিতে বিশ্বজুড়ে ব্যবহারিক ধাতুটির উত্তোলন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল কপার স্টাডি গ্রুপ (আইসিএসজি) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানায়, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে তামার বৈশ্বিক উত্তোলন ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।
কনসেনট্রেট (তামা উৎপাদনের কাঁচামাল) উত্তোলন বেড়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
তবে সলভেন্ট এক্সট্র্যাকশন-ইলেকট্রোওয়াইনিং ২ শতাংশ কমে গেছে।
প্রতিবেদনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারী শুরুর পর তামা উত্তোলন খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
তবে গত বছরের জুনে তামা শিল্প খাতে লকডাউন ও বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়।
গ্রহণ করা হয় স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিষয়ক নীতিমালা।
ফলে ধাতুটির বৈশ্বিক উত্তোলন পুনরুদ্ধার হতে শুরু করে।
যদিও চলতি বছর নভেল করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাবে কিছু দেশে উত্তোলন বাধার মুখে পড়ে।
আইসিএসজি জানায়, বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ কয়লা উত্তোলনকারী দেশ পেরু।
চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশটির উত্তোলন ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
মূলত মার্চ-মে পর্যন্ত সময়ে উত্তোলনে ঊল্লম্ফন পাঁচ মাসের উত্তোলন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
এ সময় পেরুর তামা উত্তোলন গত বছরের মার্চ-মে মাসের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
ইন্দোনেশিয়ার গ্যাসবার্গ খনিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ তামার প্রাকৃতিক মজুদ রয়েছে।
চলতি বছর এ খনির ভূগর্ভস্থ উত্তোলন কর্মকাণ্ড লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে।
এটি ইন্দোনেশিয়ার মোট তামা উত্তোলনে জ্বালানি জুগিয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশটির উত্তোলন ৭২ শতাংশ বেড়েছে বলে জানায় আইসিএসজি।
তবে বৈশ্বিক উত্তোলন বাড়লেও পিছিয়ে পড়েছে বিশ্বের শীর্ষ তামা উত্তোলক দেশ চিলি।
দেশটির তামা উত্তোলন খনিগুলোতে একের পর এক শ্রমিক আন্দোলন তামা উত্তোলন খাতকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশটির উত্তোলন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
১৩ শতাংশ কমেছে সলভেন্ট এক্সট্র্যাকশন-ইলেকট্রোওয়াইনিং।
তবে কনসেনট্রেট উত্তোলন ২ শতাংশ বেড়েছে বলে জানায় আইসিএসজি।
এদিকে শুধু উত্তোলনই নয়, বরং পরিশোধিত তামার বৈশ্বিক উৎপাদনও বেড়েছে।
আইসিএসজির প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে বিশ্বজুড়ে পরিশোধিত তামা উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে আফ্রিকার দেশগুলো।
জানুয়ারি-মে পর্যন্ত এ অঞ্চলে পরিশোধিত তামা উৎপাদন বেড়েছে ১৪ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন ১৩ শতাংশ, চীনের উৎপাদন ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ও চিলির উৎপাদন ৭ শতাংশ বেড়েছে।
আইসিএসজির তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে পরিশোধিত তামার বৈশ্বিক ব্যবহার বেড়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকেই ধাতুটির ব্যবহার পুনরুদ্ধার হতে শুরু করে। তবে বেশির ভাগ দেশে তামার চাহিদা এখনো মহামারীপূর্ব পর্যায়ের নিচে রয়েছে। এদিকে উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়তে শুরু করায় তামার দামও কমতে শুরু করেছে। গত মে মাসে ধাতুটির দাম টনপ্রতি ১০ হাজার ৭০০ ডলারে উঠে আসে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ। তবে দুই সপ্তাহ আগে এটির দাম কমে টনপ্রতি ৮ হাজার ৯৩৪ ডলারে নেমে যায়।










